অনলাইনে অব্যাহত হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় 'রেহানা মরিয়ম নূর' খ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক ব্যক্তির দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সাথে একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক আইডি থেকে তার নম্বরটি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বাঁধন লেখেন, ‘যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!’
ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশ্যে আনাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে বাঁধন আরও জানান, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা কিংবা আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা তোমাদের জন্যও যে পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটা মনে রাখা ভালো।’
অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, ‘আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।’
নিজের মানসিক সুরক্ষা ও অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনও নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে।’
হুমকিদাতাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি যুক্ত করেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।’
বাঁধনের প্রকাশ করা স্ক্রিনশট ও তার উল্লেখ করা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। তার অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
সময়ের আলো/জেডি