১১ প্রতিষ্ঠানে ৩১১ জনের ১৮৪ জনই ফেল, নেই জিপিএ-৫

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চলতি বছরের দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১টি মাদরাসার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা

2026-08-13T22:45:00+00:00
2026-08-13T22:45:00+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
তেঁতুলিয়ায় মাদরাসা শিক্ষায় বিপর্যয়
১১ প্রতিষ্ঠানে ৩১১ জনের ১৮৪ জনই ফেল, নেই জিপিএ-৫
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চলতি বছরের দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১টি মাদরাসার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬২ শতাংশই অকৃতকার্য হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, উপজেলার ১১টি মাদরাসা থেকে মোট ৩১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৮৪ জন। সে হিসেবে সম্মিলিত পাসের হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ফেলের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

উপজেলাটির সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে তেঁতুলিয়া দাখিল মাদরাসায়। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি।

মাদরাসাভিত্তিক ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কালান্দিগঞ্জ ফাজিল মাদরাসায় ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ, ভুট্টজোত পাঠানপাড়া দাখিল মাদরাসায় ২৫ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৮ শতাংশ।


শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদরাসা ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বেগম ফখরুন্নেসা ফাজিল মাদরাসা ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ। মাগুরমারী চৌরাস্তা বাজার পমিজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসা ৪৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ। ফকিরপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আলহাজ ডালিমউদ্দিন মহিলা দাখিল মাদরাসার ২৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বাংলাবান্ধা দাখিল মাদরাসা ২৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯ জন। পাসের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শালবাহান দাখিল মাদরাসা ২৫ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৭ জন। পাসের হার ২৮ শতাংশ। মাঝিপাড়া শালবাহান রোড দাখিল মাদরাসা ৩১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৮ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। তেঁতুলিয়া দাখিল মাদরাসা ১৮ জন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। পাসের হার ০ শতাংশ। উপজেলার ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদরাসাগুলোর এই ফলাফলকে সংশ্লিষ্টরা ‘শিক্ষার ধস’ হিসেবে দেখছেন। ১১টি মাদরাসার একটিতেও জিপিএ-৫ না থাকা এবং সামগ্রিক পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকির অভাব, শিক্ষক সংকট এবং ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা না দেওয়াই এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার এই করুণ দশা থেকে উত্তরণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধী সমাজ।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর হতেই এসএসসি/সমমানের পরীক্ষা ফলাফলের বিপর্যয়ের কারণ জানতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এবারের পরীক্ষা যেমন কঠিন হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর প্রতিটি কক্ষে গোপন ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন, তদরকি ছাড়া শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবাসে চরম অমনোযোগ্য, অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির পাশাপাশি বাল্যবিবাহকে পরীক্ষার রেজাল্ট বিপর্যয়ের কারণ দেখছেন তারা। এতে তারা হতভম্ব হয়ে আগামীতে যাতে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য অভিভাবক করাসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা। 

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   তেঁতুলিয়া  মাদরাসা  শিক্ষায় বিপর্যয়  পঞ্চগড়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: