আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তোড়জোড়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রাম জজ আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে

2026-08-14T12:11:46+00:00
2026-08-14T12:11:46+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তোড়জোড়
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ পিএম 
বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ের অভিযোগ। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রাম জজ আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও মামলার অন্যতম বিবাদী, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ আদালতের এই আদেশ গোপন করেছেন। এছাড়া তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাদীপক্ষের আইনজীবীকে জিম্মি করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে সাজানো এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল বলেন, যেখানে আদালতের আদেশই উপেক্ষিত হয়, সেখানে আমরা শ্রমিকরা কোথায় ন্যায়বিচার পাব? তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসী ও সরকারকে বিষয়টি অবহিত করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এই ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোস্তফা কামাল। তবে ভোটার তালিকায় সহস্রাধিক ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ‘পিংকি বাচ্চু’ নৈশ কোচের মালিক বাচ্চু মিয়াকে শ্রমিক হিসেবে ভোটার করা হয়েছে এবং তিনি মালিক হয়েও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন।

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ৪২/২৬) দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নির্বাচন কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কেন এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ১ থেকে ৬ নম্বর প্রতিপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।


বাদী পক্ষের দাবি, আদালতের নোটিশ জারিকারক ও ২ নম্বর বিবাদী সামশুল হক সরকার এবং ৩ নম্বর বিবাদী বজলুর রশিদের কাছে নোটিশ নিয়ে যাওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করেননি। উল্টো কয়েকজন সন্ত্রাসী বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণকে জোরপূর্বক ৩ নম্বর বিবাদী ও পিপি বজলুর রশিকের কক্ষে তুলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার একটি দরখাস্তে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে কোর্ট চত্বর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মোস্তফা কামাল জানান, তিনি এই পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণ জানান, কোর্টে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারির খবর ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। আদালত চলাকালীন সময়ে পিপি'র কক্ষে তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পিপি সহ অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদনে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোর্ট চত্বর ছেড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে ৩ নম্বর বিবাদী ও নির্বাচন কমিশনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুর রশিদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোনটি তার সহকারীকে দেন। নামাজের সময় না হলেও তার সহকারী জানান যে স্যার নামাজে গেছেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি আর রিসিভ করা হয়নি।

২ নম্বর বিবাদী ও নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সামশুল হক সরকার বলেন, নির্বাচন স্থগিতাদেশের কোনো নোটিশ আমার কাছে আসেনি। এছাড়া বাদীর আইনজীবীর কাছ থেকে পিপির কক্ষে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টির কিছুই আমি জানি না। আগামীকাল নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা নেই।

১ নম্বর বিবাদী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. মো. মাহফুজার রহমান জানান, কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের স্থগিতাদেশ হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশও পাইনি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যথারীতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। মোটর শ্রমিক নির্বাচন স্থগিতের জন্য নিয়োজিত আইনজীবীকে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পিপি বজলুর রশিকের সরকারি অফিস কক্ষে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। পরবর্তীতে ওকালতনামা ও দরখাস্ত ফরমে বলপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আছেন এবং কথা বলার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। অন্যদিকে পিপির এমন আচরণ নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। তবে আদালত কর্তৃক জারিকৃত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার লিখিত নোটিশ না পেলেও, মৌখিকভাবে জানার পর আদালতের নির্দেশনা মানতে সবাই আইনগতভাবে বাধ্য।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   আদালত  স্থগিতাদেশ  কুড়িগ্রাম  বাস শ্রমিক  ইউনিয়ন  নির্বাচন  তোড়জোড়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: