কুষ্টিয়ার খোকসায় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পাশেই রেলওয়ের অননুমোদিত জমি দখল করে দোকান ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও শোমসপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজল মজুমদারের বিরুদ্ধে। তিনি একই সঙ্গে খোকসা রেলস্টেশন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনের বেলায় কাজ বন্ধ রেখে মূলত রাতের আঁধারে টিনশেডের এই দোকানটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মসজিদের ব্যয় নির্বাহের কথা বলে এই দোকানঘর তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রচার চালালেও, অভিযোগ রয়েছে যে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা ভাড়ার শর্তে ইতিমধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা জামানত বা সিকিউরিটি মানি নেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী এই নেতার ভয়ে এলাকাবাসী বা ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মসজিদের নাম ব্যবহার করে রেলের জমি দখল করে ব্যক্তিগতভাবে দোকান ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
চা বিক্রেতা লিয়াকত আলী ও স্থানীয় যাত্রী আব্দুল হামিদ জানান, প্ল্যাটফর্মের মতো জনবহুল স্থানে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা তৈরি হলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে ও দুর্ভোগ বাড়বে। এ ব্যাপারে মসজিদের মোয়াজ্জেম মাহবুবুর রহমান মজিদও স্বীকার করেছেন যে মসজিদের খরচের কথা বলেই দোকানটি তোলা হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত কাজল মজুমদার কথা বলতে রাজি না হয়ে উল্টো সাংবাদিকের বৈধ নিবন্ধন আছে কি না তা জানতে চান। তিনি দাবি করেন, ত্রিশ বছর আগে সেখানে দোকানঘর ছিল, যা ভেঙে পরবর্তীতে মসজিদের বাথরুম করা হয়। বর্তমানে মসজিদের খরচ চালাতে মসজিদ কমিটিই আবার দোকানটি নির্মাণ করছে এবং এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে খোকসা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সুজন সরকার জানান, রেল কর্তৃপক্ষের কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই মসজিদের দোহাই দিয়ে এই অবৈধ নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগের প্রধান পরিচালন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের পর এটা স্পষ্ট যে রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুতই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা