কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন শতবর্ষী রেইন্ট্রি কড়াই গাছ ও একটি গাছের ডাল কাটার অভিযোগে মামলা হয়েছে। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দায়ের করা মামলার নম্বর ২৪।
এর আগে গত ১২ আগস্ট দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘কুড়িগ্রামে কাটা হলো শতবর্ষী গাছ, জানে না প্রশাসন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি মুহূর্তেই ব্যাপক ভাইরাল হলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর একদিন পরই গাছ কাটার ঘটনায় বাদি হয়ে থানায় মামলা করে জেলা পরিষদ।
মামলার এজাহারে উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৫৫), ডাকনিরপাঠ বাজারের শ্রী ক্যাতানুর ছেলে শ্রী এরশাদ (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন গাছ কেটে নেওয়া এবং কর্তনকৃত গাছের অংশ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ, উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরবন্দ বাজার থেকে কালীগঞ্জ বাজারগামী সড়কের ডাকনিরপাঠ বাজার এলাকায় হাসেম আলীর দোকানের সামনে থাকা একটি শতবর্ষী রেইন্ট্রি কড়াই গাছ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থাকা অন্য একটি গাছের ডাল কেটে ফেলা হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গত ১১ আগস্ট সার্ভেয়ার রাশেদুজ্জামান নাগেশ্বরী ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্তে যান। এ সময় তারা দুটি গাছ ও একটি ডাল কর্তনের বিষয়টি দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, শফিকুল ইসলাম, ও এরশাদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন গাছগুলো কাটেন। কর্তনকৃত গাছের কিছু অংশ ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। পরে প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের কর্তনকৃত গাছের খণ্ড উদ্ধার করে নাগেশ্বরী ডাকবাংলো চত্বরে রাখা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জীবিত রেইন্ট্রিকড়াই গাছটি এবং অন্য গাছের ডালটি বর্ধনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে এগুলোর মূল্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সড়কের গাছ কাটার ঘটনায় সরকারি সম্পদের পাশাপাশি জেলা পরিষদের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, এ ঘটনায় গতকাল মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই