ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার পানামা সফরের সময় সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, অবরোধ কার্যকর রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারবে। জাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে বদলি করে এই উপস্থিতি বজায় রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে এমন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে, যা কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসে নজিরবিহীন হবে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে তেহরান তা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নৌপথটি পুনরায় খুলতে দেওয়া হবে না। এসব শর্তের মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জুনের মাঝামাঝি এক মাসের জন্য ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর অবরোধ তুলে নিয়েছিল। পরে আবার তা পুনর্বহাল করা হয়। এতে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎসে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ