মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর জলসীমায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে এবং সামরিক শক্তি পুনর্বিন্যাস করতে নতুন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দফতর থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত থাকা এই রণতরীটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রতীক।
নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করছে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যের নির্ধারিত জলসীমায় পৌঁছাবে জাহাজটি। রণতরিটির নিরাপত্তায় সাথে রয়েছে একটি শক্তিশালী ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বেশিরভাগ বিমান হামলা চালানো হয়েছে অন্য রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ থেকে। গত ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগো বন্দর ছেড়ে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে অভিযানে অংশ নেয় লিঙ্কন।
তবে টানা দীর্ঘ ৯ মাস সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে লিঙ্কনে অবস্থানরত সেনাসদস্যরা চরম মানসিক চাপে ভুগছেন। ছুটি না পাওয়া, পরিবারের সাথে দীর্ঘ বিচ্ছেদ ও যুদ্ধের ময়দানের অবসাদের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন সেনা সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন। তাছাড়া দীর্ঘ ব্যবহারে রণতরিটিতে কারিগরি ত্রুটি ও রসদ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নৌসেনাদের এমন মানবিক বিপর্যস্ত অবস্থা নিয়ে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের তীব্র দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে সরিয়ে তার জায়গায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন পেন্টাগন।
সময়ের আলো/জেডি