ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। সম্প্রতি দেশের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সহকারী সম্পাদক সাকী আহ্সান
সময়ের আলো : প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এম সাখাওয়াত হোসেন : প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সেই পররাষ্ট্রনীতির ধারাই অনুসরণ করেছেন, যা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুসরণ করেছিলেন। অর্থাৎ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে। চীন সফরে বিসিএম (বাংলাদেশ-চায়না-মিয়ানমার) করিডোরের প্রস্তাব এসেছে। বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি না দিয়ে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার কথা বলেছে। এ অবস্থানের পেছনে কি সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি কাজ করেছে? হ্যাঁ, আমার মতে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল।
এর অর্থ কি সরকার পর্যাপ্ত হোমওয়ার্ক করেনি, নাকি অন্য কোনো কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?
না, এটিকে সরকারের হোমওয়ার্ক না করার বিষয় হিসেবে দেখছি না। আলোচনায় এমন কোনো বিষয় ছিল না, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত বা নতুন। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস)-এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন করতেন। আমি মনে করি, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো।
চীন কেন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক করিডোরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে যুক্ত করতে আগ্রহী? এর পেছনে দেশটির কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য কী বলে আপনি মনে করেন?
চীন একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। তাই তারা মধ্য এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার কৌশল অনুসরণ করছে। তারা তাদের রপ্তানি বাজার ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিকল্প বাণিজ্যপথ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিসিএম করিডোর নিয়ে চীনের মূল আগ্রহ কোথায়? এ ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অবশ্যই এর একটি ভূরাজনৈতিক দিক রয়েছে। তবে আমার মতে, তাদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ অর্থনৈতিক। বিসিএম করিডোর কোনো নতুন ধারণা নয়। চীন বলছে, ভারত চাইলে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এখন ভারত এতে অংশ নেবে কি নেবে না, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
চীনের বিআরআইয়ে (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
বিআরআইয়ে যুক্ত হওয়ার পরও সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি চীনমুখী ছিল না। তিস্তা প্রকল্পের কথা বলা যায়। তৎকালীন সরকার চীনকে এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও, ভারতের আপত্তির কারণে সেটি আর এগোয়নি। এই প্রেক্ষাপটে, সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগ্রহ ও আন্তরিকতা প্রথম দিকের তুলনায় কিছুটা কমে আসে।
চীনের প্রস্তাবিত বিসিএম অর্থনৈতিক করিডোর বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হতে পারে? এ উদ্যোগের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব কী?
দুটি কারণে বিসিএমকে আমি একটি ভালো প্রস্তাব মনে করি। প্রথমত, এটি একটি কার্যকর অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ যত বাড়বে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ততই ইতিবাচক হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চীনা বিনিয়োগ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি একটি অত্যন্ত সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) বিষয়, তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চট্টগ্রামকেন্দ্রিক চীনা বিনিয়োগ কেন সেনসিটিভ বিষয়?
এই অঞ্চলে বাংলাদেশের একটি কৌশলগত ভালনারেবিলিটি (দুর্বলতা) রয়েছে। ভারতের কিছু বিশ্লেষক ফেনী নদীসংলগ্ন এলাকাকে বাংলাদেশের ‘চিকেন নেক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এই অংশ বিচ্ছিন্ন করা গেলে চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এই কৌশলগত বাস্তবতাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ এতে বাংলাদেশের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরকে সবসময় নিরাপদ যোগাযোগপথ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিতে যদি বঙ্গোপসাগরে চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিকল্প যোগাযোগপথ কী হবে?
এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজতে হবে। তবে সবকিছুই হতে হবে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বাধীনতা (স্ট্র্যাটেজিক ইন্ডিপেনডেন্স) অক্ষুণ্ন রেখে।
বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সম্পর্ক কী?
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইন্ডিপেনডেন্ট ডিসিশন মেকিং (নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে যত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হবে, ততই বাইরের শক্তির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমবে।
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানেই যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হবে, আমি তা মনে করি না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের তিন দিকজুড়ে ভারতের সীমান্ত। ফলে বাস্তবতার কারণেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। স্টেট-টু-স্টেট (রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের) এবং পিপল-টু-পিপল (জনগণের সঙ্গে জনগণের) উভয় পর্যায়েই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া উচিত।
চীনের এ উদ্যোগ কি শুধুই অর্থনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত, নাকি এর পেছনে সামরিক বা কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে?
না, আমি এটা বলব না যে, চীনের কোনো সামরিক স্বার্থ নেই। অবশ্যই তাদের কৌশলগত ও সামরিক স্বার্থও রয়েছে। তবে তারা সেটি প্রকাশ্যে অ্যাগ্রেসিভলি তুলে ধরছে না। আমার ধারণা, চীন এখনো মনে করে, বৈশ্বিক পরিসরে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তারা এমন অবস্থানে পৌঁছায়নি, যেখানে প্রকাশ্যে সেই ভূমিকা নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা। অর্থাৎ তারা বিনিয়োগ করবে, বিভিন্ন দেশে তাদের উপস্থিতি বাড়াবে এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন হলে সেই অর্থনৈতিক উপস্থিতিকে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে সেটা কতটা যৌক্তিক?
আমি এটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলব না। তবে প্রশ্ন হলো, ভারতের মতো একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী দেশ, যার কৌশলগত উপস্থিতি ভারত মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত, তাদের কাছে বাংলাদেশে চীনের একটি বন্দর বা অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে এত উদ্বেগের কারণ কী? বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি নিয়ে তারা যে মাত্রার উদ্বেগ প্রকাশ করে, তা অনেক সময় বাস্তবতার তুলনায় বেশি বলে মনে হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে চীনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মিয়ানমারের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের বড় একটি অংশ চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে চীনকে ছাড়া মিয়ানমারের পক্ষে চলা কঠিন, আবার চীনের পক্ষেও মিয়ানমারকে সহজে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এই বাস্তবতায় আমার মনে হয়, রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সক্ষমতা চীনেরই রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আরাকান আর্মির ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আরাকানকে পাশ কাটিয়ে শুধু মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে কি এই সংকটের সমাধান সম্ভব?
আরাকানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান অনেকাংশে বাংলাদেশ-আরাকান সম্পর্কের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের উচিত আরাকানের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। সেই সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান।
মোংলা বন্দর সম্প্রসারণে চীনের সম্পৃক্ততা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এ প্রকল্পের অগ্রগতি কেন দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
চট্টগ্রাম বন্দর ইতোমধ্যে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলও আরও কার্যকর হবে। মোংলা বন্দরের উন্নয়নকাজ চীনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কোনো অংশীদার এ বন্দরকে প্রয়োজনীয় মানে উন্নীত করতে পারবে বলে মনে হয় না।
মোংলা বন্দরের উন্নয়নকাজ চীনের কাছে দিলে ভারতের যে আপত্তি ও নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে, আপনি সেগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মোংলা বন্দরের উন্নয়নকাজ চীনের কাছে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কিছু বিশ্লেষক যে বিতর্ক তুলছেন তা অনেকটাই বাংলাদেশকে নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা। কেউ কেউ দাবি করেন, চীন মোংলা বন্দরের মাধ্যমে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলবে। আমি এ আশঙ্কার সঙ্গে একমত নই। মোংলা বন্দরে কোনো নৌঘাঁটি গড়ে তোলার প্রশ্নই আসে না। খুলনায় বাংলাদেশের নিজস্ব নৌঘাঁটি রয়েছে। তাই চীনকে বন্দর উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া মানেই তারা সেখানে সামরিকভাবে অবস্থান নেবে- এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি আমি দেখি না।
চীনের ঋণ ও বিনিয়োগ ঘিরে যে ‘ঋণের ফাঁদ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
যে কোনো উৎস থেকেই ঋণ নেওয়া হোক না কেন, সেটা হতে পারে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কিংবা অন্য কোনো দেশ, ঋণ নেওয়ার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ঝুঁকি থেকেই যায়। যতদিন একটি দেশকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, ততদিন সেই ঝুঁকিও থাকবে। ঋণের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নীতিগত শর্ত যুক্ত থাকে, সেটিই মূল ঝুঁকির জায়গা। তবে আমার মনে হয় না, বাংলাদেশ এখন এমন অবস্থায় রয়েছে যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। যেকোনো ঋণ নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা। যতটুকু পরিশোধ করার সামর্থ্য রয়েছে, ততটুকুই ঋণ নেওয়া উচিত।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আমাদের পানির প্রয়োজন রয়েছে, আর সেই প্রয়োজন অবশ্যই মেটাতে হবে। যদি সেই প্রয়োজন চীনের সহযোগিতায় পূরণ করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই করা উচিত। বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে না; বরং নিজ দেশের মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্যই এটি করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি (কৌশলগত স্বাধীনতা) কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ আমাদের এমন স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে, যার মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে পারি।
সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও