ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী মোখায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার মোখা বন্দরে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে সরকারপন্থী সশস্ত্র বাহিনী। এ সময় কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় আগুন ধরে যায়।
তবে হুতিদের দাবি, তারা বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি নৌকা ও অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
মোখায় হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবের নাজরান শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবার প্রতিবেদনে এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমায় সৌদি সামরিক বিমান প্রবেশের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়।
তবে নাজরানে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল বা সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা জানায়নি হুতিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত বাড়ছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হুতিরাও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবারও সৌদি আরবের জাজান শহরের একটি আরামকো শোধনাগারে দুটি ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা।
এর আগে গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে সৌদি অবরোধের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে হুতিরা। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হুতিদের ঘোষণার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোদেইদা বন্দরনগরীতে বিমান হামলা চালায়। সৌদি জোটের দাবি ছিল, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করা হুতিদের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এর পরের বছর হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর থেকেই ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের লড়াই অনেকটাই কমে আসে। তবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
ফলে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মোখা বন্দরে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সৌদি আরবে হুতিদের পাল্টা হামলার দাবি সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে হামলার পর মোখা বন্দরের পরিস্থিতি এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/কেএইচ