ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করতে হচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে। এতে একদিকে যেমন জাহাজ ও সরঞ্জামের ওপর বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে নাবিকদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও মনোবল কমে যাওয়ার মতো সমস্যা।
মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিজ ঘাঁটিতে ফিরতে পারেনি। চলমান মোতায়েন অব্যাহত থাকলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার রেকর্ড গড়তে পারে জাহাজটি।
এর আগে চলতি বছরই ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ৩২৬ দিনব্যাপী মোতায়েন শেষ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ইরান ও ভেনেজুয়েলা ঘিরে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া ওই রণতরীটি ১১ মাসেরও বেশি সময় সমুদ্রে ছিল।
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রচলিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বিমানবাহী রণতরীকে সাধারণত প্রায় সাত মাস বা ২১০ দিন মোতায়েন রাখার কথা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংকটের কারণে সেই সময়সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রণতরীর মোতায়েন।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে অধিকাংশ বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়েছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে গিয়ে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের মোতায়েনও দীর্ঘায়িত হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
জাহাজটির কয়েকজন নাবিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাহাজের বিভিন্ন স্থানে টয়লেট ও পানির ফোয়ারা নিয়মিত বন্ধ থাকছে। অনেক সময় গরম পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
এক নাবিকের ভাষ্য, আগে জাহাজের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী সহজেই পাওয়া যেত। এখন সেগুলোর কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং অনেক পণ্যই সহজলভ্য নয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এক নাবিকের মা জানান, পরিবারের পাঠানো প্যাকেজ অনেক সময় কয়েক মাস পর পৌঁছাচ্ছে, আবার কোনো কোনোটি হারিয়েও যাচ্ছে।
দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। লিংকনে কর্মরত এক নাবিক সিএনএনকে জানান, জাহাজে মনোবল খুবই কম এবং সহকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার কথাও তিনি শুনেছেন।
তবে মার্কিন নৌবাহিনী এ ধরনের দাবির সঙ্গে একমত নয়। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, জাহাজটিতে আত্মহত্যার চিন্তা বা এ ধরনের প্রচেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো প্রবণতা তারা দেখেনি। নাবিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় পরামর্শদাতাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে নৌবাহিনী।
সময়ের আলো/কেএইচ