কলকাতা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটি সংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে খাবার পানির সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ। একই সঙ্গে নিভে রয়েছে পথের ল্যাম্পপোস্ট।
এমন পরিস্থিতির কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কারা এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল— তার কোনো উত্তর পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি কলোনির অধিবাসীরা। দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, এলাকাটিতে মূলত সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করায় পরিকল্পিতভাবে এই নাগরিক সুবিধাগুলো আটকে রাখা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই আচমকাই পুরো কলোনিতে পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতিবাদের মুখে দিনকয়েক আগে বিদ্যুতের সুবিধা কিছুটা স্বাভাবিক করা হলেও, দীর্ঘ আড়াই সপ্তাহেও ফিরে আসেনি পানির সংযোগ।
প্রায় ৫০ থেকে ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় বাস করা ৫০০টি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন এখন বিপর্যস্ত। মাইলের পর মাইল হেঁটে খাওয়ার পানি বহন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী গঙ্গার দূষিত পানি দিয়ে চলছে থালাবাসন ধোয়া ও রান্নাবান্নার কাজ, যার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নানা চর্ম ও পানিবাহিত রোগ।
বাসিন্দাদের একাংশের মনে জমাট বাঁধছে জমি খালি করা বা বস্তি উচ্ছেদের আতঙ্ক। তবে ঘটনা নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে স্থানীয় গণমাধ্যম এবং ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির এক বিতর্কিত উক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। নির্বাচনে ভোট না পাওয়ার দোহাই দিয়ে সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ না করার বিষয়ে তার পূর্বে করা মন্তব্যকে এই পরিষেবা বন্ধের নেপথ্য কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।