খাবার কেবল পেট ভরানোর মাধ্যম নয়, এটি মানবদেহের শক্তি, মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের মূল নিয়ামক। ইসলাম ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান— উভয় ক্ষেত্রই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সুষম ভারসাম্য ও বৈচিত্র্য বজায় রাখার ওপর সমান গুরুত্ব প্রদান করে।
প্রথমত, খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ‘হালাল’ হওয়াই যথেষ্ট নয়; ইসলামি বিধান অনুযায়ী তা হতে হবে ‘তায়্যিব’ বা বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর। কোরআনে হালালের পাশাপাশি তাজা, কেমিক্যালমুক্ত এবং শরীরের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সুস্থতার দ্বিতীয় মূলনীতি হলো পরিমিত আহার। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং বাকি অংশ শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা উত্তম। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে অতিভোজন, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের প্লেটে লাল, সবুজ, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও প্রোটিনের সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। ফলমূল ও সবজির এই বৈচিত্র্যময় ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ রাখে।
একই সাথে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং ডুবোতেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত লাল চাল-আটা, ফলমূল, ডাল ও মাছকে খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
খাবার গ্রহণের সুন্নাহ ও সুনির্দিষ্ট আদব, যেমন—হাত ধোয়া, বিসমিল্লাহ বলা ও ধীরে চিবিয়ে খাওয়া বস্তুত আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের ‘মাইন্ডফুল ইটিং’-এরই রূপ। সর্বোপরি, সুস্থ থাকতে কোনো মহার্ঘ খাবারের প্রয়োজন নেই; আমাদের আশপাশের সস্তা ও মৌসুমি খাবারেই নিহিত রয়েছে পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি।
সময়ের আলো/জেডি