সদ্য বিদায়ি সপ্তাহে দেশের দুই পুঁজিবাজারে প্রধান সূচকগুলো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও লেনদেনের গতি কমেছে এবং সার্বিকভাবে দরবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের পাল্লাই ভারী ছিল। তবে এই মন্দাভাবের মধ্যেও বন্ধ ও দুর্বল ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ও শীর্ষ লেনদেন ছিল লক্ষণীয়।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২.৯৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৮৮৩.৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫,৮৬০.৯৬ পয়েন্ট। তবে ডিএস৩০ সূচক ০.৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২,১৯২.৭৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩.৫৬ পয়েন্ট কমে ১,১৭৭.১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই এসএমই সূচক ২৯.৪৩ পয়েন্ট কমে ১,১৩২.৭৫ পয়েন্টে স্থির হয়েছে।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কাসপি (সিএএসপিআই) ০.৪৯৭৯ শতাংশ বেড়ে ১৫,৮০৩. ৪৮ পয়েন্টে এবং প্রধান সূচক সিএসইএক্স ০.৪৯০৭ শতাংশ বেড়ে ৯,৬২৭.৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে সিএসই৫০ সূচক ০.৩৯ শতাংশ এবং শরিয়াহ সূচক সিএসআই ০.২৩ শতাংশ ইতিবাচক হলেও এসএমই খাতের সূচক সিএসইএসএমইএক্স ২.১২ শতাংশ কমে ২,৪০০.২৯ পয়েন্টে নেমে আসে।
লেনদেন ও শেয়ারের দরচিত্র
ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসে মোট ৪ হাজার ৯৮৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়। তবে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৯৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়, যা আগের সপ্তাহের গড় লেনদেন ১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার তুলনায় ১৫.৫৯ শতাংশ কম। একই সঙ্গে দৈনিক গড় শেয়ার হস্তান্তর ২৫.১১ শতাংশ কমে ৩৪ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় ২০৮টি কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়। বিপরীতে ১৬২টি কোম্পানির দর বাড়ে এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৭টির।
সিএসইতে ৩২৯টি কোম্পানির মোট ২০২ কোটি টাকার ৩.৮৫ কোটি শেয়ার লেনদেন হয়। এখানে ১৪৫টি শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। সিএসইর মোট লেনদেনের ৮০.৭৯ শতাংশ (১৬৩.২১ কোটি টাকা) এসেছে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে; এ ছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৮.৭৫ কোটি টাকা, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৯.৯৯ কোটি টাকা এবং ‘এন’ ক্যাটাগরিতে ৫.৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
লেনদেনের শীর্ষে ‘জেড’ ক্যাটাগরির আধিপত্য
ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির মধ্যে ৬টিই ছিল বন্ধ বা লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির। সর্বোচ্চ ৫২.৭৮ শতাংশ দর বেড়ে তালিকার শীর্ষে স্থান করে নেয় তুং হাই নিটিং (সমাপনী দর ৫.৫০ টাকা)। এ ছাড়া জিবিবি পাওয়ার (২৬.৬৭ শতাংশ), নূরানী ডাইং (২৫.৮১ শতাংশ), এনআরবিসি ব্যাংক (২১.৮৪ শতাংশ), মেট্রো স্পিনিং (১৫.৯৬ শতাংশ) এবং সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল (১৫.৬৩ শতাংশ) শীর্ষ দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির মধ্যে সি পার্ল বিচ (২২.১২ শতাংশ) ও বাংলাদেশ ল্যাম্পস (২০.৪২ শতাংশ) দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল। সিএসইতেও তুং হাই নিটিং (৫৫.৭৭ শতাংশ), বাংলাদেশ ল্যাম্পস (৩০.২৫ শতাংশ), নূরানী ডাইং (৩০.০০ শতাংশ) এবং জিবিবি পাওয়ার (২৯.৩১ শতাংশ) দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে বেক্সিমকো লিমিটেড ও শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিটি প্রায় ৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষে থাকে। এ ছাড়া মালেক স্পিনিং, সাইহাম টেক্সটাইল ও এমএল ডাইং শীর্ষ লেনদেনে ছিল। খাতভিত্তিক লেনদেনে বস্ত্র খাত ২২.১৭ শতাংশ দখল করে শীর্ষে ছিল, তার পর সাধারণ বীমা (১৮.৫১ শতাংশ), ওষুধ (৯.০৬ শতাংশ) ও ব্যাংক খাত (৭.৯১ শতাংশ) অবস্থান নেয়। সিএসইতে এককভাবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ৪৯.৯৭ কোটি টাকার লেনদেন করে শীর্ষে থাকে, তার পর ছিল সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (৪০.০০ কোটি টাকা) ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক (২৫.১০ কোটি টাকা)।
অন্যদিকে উভয় বাজারেই পিপলস লিজিং (২০.৮৩ শতাংশ পতন), প্রাইম ফাইন্যান্স (২০.০০ শতাংশ পতন) ও জিএসপি ফাইন্যান্সের (১৫.৬৮ শতাংশ পতন) মতো নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দরপতনের শীর্ষে ছিল।
সময়ের আলো/এসএকে