গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে অন্য বন্ধু নিহত হয়েছেন। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে কালিয়াকৈর উপজেলার ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বন্ধু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাকিল চৌধুরীকে আটক করে।
নিহত যুবক হলেন, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার আটাপড়া পাহাড়পুর এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে আকাশ মিয়া (২২)। সে কুতুবদিয়া এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থেকে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে হেলপারী কাজ করতো। আটক উপজেলার টান কালিয়াকৈর এলাকার আলম মিয়ার ছেলে সাকিল চৌধুরী।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ওই নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবন ও এর লেনদেনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় চার বন্ধু মিলে মাদক সেবন করার সময় আকাশ নামে ওই যুবকের সঙ্গে অন্যান্য বন্ধুদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তার বন্ধুর বুকে ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে। ভিকটিমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ রোববার দুপুরে অভিযান চালিয়ে উপজেলার হিজলতলী এলাকায় অভিযুক্ত সাকিল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম পিপিএম বার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মাদকের দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই