যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম
উপাচার্য বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি দুটি তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তাঁর একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি।
রেজিস্ট্রার আরও বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে তার বক্তব্য পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাঁর শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।
তবে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত একতরফা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্তে আমার প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য একাধিকারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। একতরফাভাবে ষড়যন্ত্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পাইনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ক্লাসের উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী তাঁর চেম্বারে যান। সেখানে অধ্যাপক প্রভাস তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেখান এবং ছবি না তুলে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীকে অশোভনভাবে স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগ তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/আতা