বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়াতে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে সার্বিক সমন্বয় করছে ইউজিসি।
রোববার (১৬ আগস্ট) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা : উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
ড. মামুন বলেন, দেশের শিল্পখাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কাজ করছে ইউজিসি। বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। এর মাধ্যমে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে ইউজিসির চারটি উদ্যোগ তুলে ধরে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পর্যালোচনা ও হালনাগাদে শিল্পখাতকে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্টের সুযোগ তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ ফলাফল শিল্পখাতে প্রয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তিকে শিল্পখাতের উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব অর্থায়নের একটি অংশ প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ড. মামুন আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন যেমন শিল্পখাতের বাস্তব উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে, তেমনি শিল্পখাতের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর মেলবন্ধন তৈরি হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন রশিদ খান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চারটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
সময়ের আলো/এসএকে