সব সম্পর্ক একই রকম স্মৃতি রেখে যায় না। কোনো সম্পর্ক বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা বা মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে শেষ হলে তার প্রভাব পরবর্তী সম্পর্কেও থেকে যেতে পারে। একবার প্রতারিত হওয়ার পর অনেকেই নতুন মানুষের আচরণের মধ্যেও পুরোনো অভিজ্ঞতার ছায়া খুঁজতে শুরু করেন। ফলে ভুল না করেও একজন নির্দোষ মানুষকে সন্দেহের মুখে পড়তে হয়।
বর্তমানকে অতীত দিয়ে বিচার
নতুন কাউকে কতটা বিশ্বাস করা যাবে, তা অনেক সময় নির্ভর করে অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর। মস্তিষ্ক বেদনাদায়ক ঘটনা মনে রাখে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য মিল পেলেই পুরোনো আশঙ্কা ফিরে আসতে পারে। অথচ নতুন মানুষটি হয়তো আদৌ কোনো ভুল করেননি।
বিপদ আসার আগেই ভয়
অতীতের কোনো ঘটনা বর্তমানের সঙ্গে সামান্য মিললেই মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। কোনো প্রমাণ পাওয়ার আগেই মনে হতে পারে, আবার বুঝি প্রতারিত হতে যাচ্ছেন। এই ভয় সত্যিই অনুভূত হতে পারে, কিন্তু অনুভূতি সব সময় বাস্তবতার প্রমাণ নয়। পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমানের মিল থাকা মানেই বর্তমান মানুষটি একই ভুল করবেন, এমন নয়।
সন্দেহের আগে প্রমাণ জরুরি
নতুন মানুষটি আগের কারও মতো মনে হচ্ছে কি না, সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বরং তার আচরণে অসততা, অসম্মান বা বিশ্বাসঘাতকতার বাস্তব প্রমাণ আছে কি না, সেটিই দেখা দরকার। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘আমি কি সত্যিই কোনো সমস্যার মুখোমুখি, নাকি পুরোনো কষ্টের কারণে বর্তমানকে ভয় পাচ্ছি?’
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া জরুরি। কারণ অতীতের ভুলের দায় বর্তমানের মানুষের ওপর চাপালে একটি সুস্থ সম্পর্কও ধীরে ধীরে অবিশ্বাসের সম্পর্কে পরিণত হতে পারে।
আস্থা মানে অন্ধ বিশ্বাস নয়
বিশ্বাস করার অর্থ সবকিছু চোখ বন্ধ করে মেনে নেওয়া নয়। বাস্তব সতর্কতা প্রয়োজন, কিন্তু প্রতিটি আচরণে সন্দেহ খোঁজার অভ্যাস সম্পর্ককে দুর্বল করে। যিনি কোনো ভুল করেননি, তিনি একসময় অনুভব করতে পারেন যে অন্য কারও করা ভুলের জন্য তাকেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
তাই সন্দেহ জমিয়ে না রেখে নিজের ভয় ও উদ্বেগ নিয়ে খোলামেলা কথা বলা ভালো। অতীতকে অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই, তবে বর্তমান মানুষটিকে তার নিজের আচরণ দিয়ে বিচার করাই সুস্থ সম্পর্কের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সময়ের আলো/এমকে