ল্যাসিক চক্ষু চিকিৎসায় নিরাপদ উপায়

ডা. আবির বিন সাজ্জ (স্বাগত)

ফিচার

ল্যাসিক একটি অত্যাধুনিক লেজার সার্জারি। দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে অল্প বয়সেই যাদের চশমা দরকার হয় এই অপারেশন তাদের জন্য।কোনো কিছু

2026-08-17T22:37:31+00:00
2026-08-17T22:37:31+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
ল্যাসিক চক্ষু চিকিৎসায় নিরাপদ উপায়
ডা. আবির বিন সাজ্জ (স্বাগত)
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ল্যাসিক একটি অত্যাধুনিক লেজার সার্জারি। দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে অল্প বয়সেই যাদের চশমা দরকার হয় এই অপারেশন তাদের জন্য। কোনো কিছু স্পষ্ট দেখার জন্য বস্তু থেকে আসা আলো রশ্মি কর্নিয়া এবং লেন্সের ভেতর দিয়ে চোখের মধ্যে প্রবেশ করে। কর্নিয়া এবং লেন্স আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর ফোকাস করে। রেটিনা আলোর রশ্মিকে বিশেষ সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে ব্রেইনে পৌঁছে দেয়, তাই আমরা দেখতে পাই।

যাদের রিফ্রাকটিভ ত্রুটি যেমন মায়োপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টি), হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরদৃষ্টি) এবং অ্যাস্টিগম্যাটিজম (বিষমদৃষ্টি) থাকে তাদের কর্নিয়া এবং লেন্স আলোর রশ্মিকে সঠিকভাবে রেটিনায় ফোকাস করতে পারে না। তাই বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না। সাধারণত চশমা অথবা কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে এই সমস্যা সাময়িক ঠিক করা হয়।

ল্যাসিক সার্জারিতে চোখের কর্নিয়ার বক্রতা পরিবর্তন করার মাধ্যমে চোখের পাওয়ার ঠিক করা হয়। লেজার রশ্মির সাহায্যে এই কাজ করা হয়। চোখে অবশ করার ড্রপ দিয়ে ব্যথামুক্ত করা হয়। কোনো ইনজেকশন প্রয়োজন হয় না। এটি করতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। লেজার করতে লাগে মাত্র ৮ থেকে ১৮ সেকেন্ড। ল্যাসিক সার্জারি সাধারণত দুই চোখে একই সঙ্গে করা হয়।

অল্প পাওয়ার কারেকশনের জন্য ল্যাসিক হলো সবচেয়ে ভালো সার্জারি। কিন্তু যাদের পাওয়ার অনেক বেশি তাদের জন্য ল্যাসিক নিরাপদ নয়। এমনকি চশমার পাওয়ার কম হওয়া সত্ত্বেও কর্নিয়া পাতলা কিংবা অনেক বেশি ড্রাই আই অথবা কেরাটোকোনাস রোগ থাকলে ল্যাসিক করা যায় না। একটি সফল ও নিরাপদ ল্যাসিক সার্জারির জন্য কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যেমন-

• বয়স ১৮ হয়েছে কি না
• চশমার পাওয়ার স্থিতিশীল থাকছে কি না
• চশমার পাওয়ার ল্যাসিকের উপযুক্ত কি না
• চোখের কর্নিয়া যথেষ্ট পুরু কি না
• চোখে অন্য কোনো রোগ আছে কি না

চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার পাশাপাশি কর্নিয়ার টমোগ্রাফি, কর্নিয়ার পুরুত্ব, ড্রাই আই অ্যানালাইসিস এবং রেটিনার পরীক্ষাসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবকিছু রিপোর্ট ভালো থাকলে তবেই ল্যাসিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যাদের ল্যাসিক করা যায় না, তাদের জন্য আইসিএল বা আইপিসিএল লেন্স চোখের ভেতরে স্থাপন করা এক যুগান্তকারী সমাধান। আইসিএল বা আইপিসিএল এক ধরনের অতি পাতলা নরম কৃত্রিম লেন্স যা অপারেশন করে চোখের আইরিসের পেছনে স্থাপন করা হয়। ছানি অপারেশনের সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, ছানি অপারেশনে চোখের অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক লেন্সকে ফেলে দেওয়া হয় বা বের করে আনা হয় কিন্তু আইসিএলের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক লেন্সটি অক্ষত থাকে।

কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক এই দুই লেন্সের সমন্বয়ে রোগী দূরে এবং কাছে সবকিছু চশমা ছাড়াই স্পষ্ট দেখতে পায়। রোগীর চোখের চশমার পাওয়ারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাস্টমাইজ করে এই লেন্স অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়ে আনতে হয়। ল্যাসিক করতে কোনো ব্যথা লাগে না। কারণ অপারেশনের সময় অবশ করার ড্রপ ব্যবহার করে অপারেশন করা হয়। 

কোনো ইনজেকশন দরকার হয় না। ব্যান্ডেজও দরকার হয় না। অপারেশন করার পরপরই চশমা ছাড়াই সব ভালো দেখা যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে অপারেশনের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা চোখে ঝাপসা দেখা, আলোতে অস্বস্তি, পানি পড়া বা চোখে কিছু একটা থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে।

ল্যাসিকের পরও যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
এক দিন বাড়িতে বিশ্রাম। অপারেশনের পর ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চোখে পানি না লাগানোই ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। চোখে হাত দিয়ে ঘষা, ধুলাবালি বা ধোঁয়ার সংস্পর্শ এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। সাঁতার, চোখে মেকআপ ব্যবহার কিংবা চোখে পানি ঢোকার মতো কাজও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়। নিয়মিত ফলোআপে গিয়ে কর্নিয়ার অবস্থা ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। 

তবে ল্যাসিক করার নির্দিষ্ট সময় পর রান্না করা থেকে শুরু করে সাঁতার কাটা পর্যন্ত যেকোনো কাজ করা যায়। তাই ল্যাসিক সার্জারি করে প্রতি বছর বহু ছেলেমেয়ে আর্মি, নেভি ও এয়ারফোর্সে যোগদান করে থাকে। ল্যাসিককে শুধু চশমা ছাড়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে না দেখে চোখের জন্য একটি সার্জারি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। সবার জন্য একই পদ্ধতি উপযোগী নয়। মানবদেহে যত রকম অপারেশন করা হয় তা কোনো না কোনো ঝুঁকি বহন করে। ল্যাসিক অপারেশনের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি একেবারেই নগণ্য। 

যেসব জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তার সবই সহজে চিকিৎসার যোগ্য। তাই বিজ্ঞাপন বা পরিচিত কারও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে পূর্ণাঙ্গ চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আধুনিক প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করানো গেলে ল্যাসিক অনেকের দৈনন্দিন জীবনকে চশমার ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে পারে।

লেখক : কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাকো, ল্যাসিক ও রিফ্র্যাকটিভ সার্জন, ভিশন আই হাসপাতাল

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   ল্যাসিক  চক্ষু চিকিৎসা  নিরাপদ উপায় 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: