বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পানগুছি নদীর লাগাতার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ ও হাজারো ঘরবাড়ি। সম্প্রতি অতিরিক্ত জোয়ারের বারইখালী ফেরিঘাট হয়ে ঘষিয়াখালী অভিমুখী সাড়ে ৩ কিলোমিটার ইট সোলিং রাস্তাটি নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পানগুছি নদীর তীরবর্তী বারইখালী ইউনিয়নে ফেরিঘাট থেকে বহরবুনিয়ার ফুলহাতা বাজারসহ ঘষিয়াখালী পর্যন্ত পানগুছি নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। বার বার নদীগর্ভে বিলীন হওয়া এই রাস্তা একাধিকবার সংস্কার-মেরামত করা হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। নদীগর্ভে বাড়িঘর হারিয়ে অভিবাসিত হয়েছেন অনেক পরিবার।
ভুক্তভোগী কামাল শেখ, জালাল শেখ, আলম শেখ, নাজিম মাহমুদ জুয়েল, আকলিমা বেগমসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, নদী গর্ভে অন্তত ২ হাজার একর ফসলি জমি চলে গেছে। কয়েকশত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মাসুমা আক্তার জানান, প্রতি বছরই পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা। যার কারণে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীর। বারইখালী ফেরিঘাট থেকে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ইট সোলিং রাস্তাসহ ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৫টি মসজিদ।
রাস্তাটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে তুলাতলা, কাশ্মীর, বারইখালী, উত্তর সুতালড়ী, এজবি বাজার, ফুলহাতা, ঘসিয়াখালী সহ নদীর তীরবর্তী মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল। তিনি বলেন, এখানে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণ হলে গ্রামবাসীদের এ সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, বারইখালী ফেরিঘাট সংলগ্ন ইট সোলিং রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে বেঁড়িবাধ নির্মাণের পরবর্তীতে ফেরিঘাট হয়ে ঘসিয়াখালী অভিমুখী ইট সোলিং ও কার্পেটিং ২টি রাস্তার প্রস্তাবনা দেওয়া রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা