ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীভাঙনের কবলে ৪ গ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, পানিশ্বর, শাখাইতি ও শোরবাড়ি গ্রামে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার

2026-08-19T08:56:26+00:00
2026-08-19T08:57:33+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীভাঙনের কবলে ৪ গ্রাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ এএম  আপডেট: ১৯.০৮.২০২৬ ৮:৫৭ এএম
নদীভাঙন। ছবি : সময়ের আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, পানিশ্বর, শাখাইতি ও শোরবাড়ি গ্রামে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীর ভাঙতে থাকায় অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ৪ দশকে নদীভাঙনে চার গ্রামের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত ৯ থেকে ১০ বছরে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। শুধু গত চার বছরে শোরবাড়ি গ্রামের ১০টি, পানিশ্বর গ্রামের ৫টি এবং শাখাইতি গ্রামের ১৪টি চাতাল নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে সহস্রাধিক চাতাল শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে অর্ধশতাধিক পরিবার পুরোপুরি ভিটেছাড়া হয়েছে এবং শতাধিক পরিবার আংশিকভাবে ভাঙনের শিকার হয়েছে।

পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র পাল জানান, তার বাবার আমলে যেখানে ৩ কানি জমিতে বসতবাড়ি ছিল, এখন সেখানে মাত্র তিন শতক জমি রয়েছে। নদীভাঙনের কারণে গত ৪০ থেকে ৪৫ বছরে এ এলাকার ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার সেখানে বসবাস করছে।

শাখাইতি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত তিন থেকে চার বছরে নদীভাঙনে ২৫ থেকে ৩০টি চাতাল, একটি মসজিদ, মাজার, কবরস্থান, কৃষিজমি ও কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। আরও বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে পানিশ্বর বাজার, পানিশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শাখাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শোরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হুমকির মুখে পড়বে।


পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ গ্রামগুলো রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে আপাতত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত জানান, পানিশ্বর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পালপাড়া থেকে শোরবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানান, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। এ বিষয়ে গত মার্চে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   ব্রাহ্মণবাড়িয়া  নদীভাঙন  গ্রাম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: