রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের অফিসে হামলার ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় পরিচয় শনাক্ত না হওয়া আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাকসুর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলী আদালতে মামলাটি করেন আম্মার।
মামলায় নামীয় আসামিরা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় জিএসের ২০২ নম্বর অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা সেখানে জড়ো হয়ে জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে ঢুকে আসামিরা আম্মারের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করা হয়। একই সময়ে অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এ সময় হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব ও মেহেদীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার আবেদনে বলা হয়, একপর্যায়ে আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
এ ছাড়া নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে মেহেদীও আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার। এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভলভ করে একটি মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা। এছাড়া আর কিছু না।
সময়ের আলো/জোই