বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৬৯ নম্বর এসবি কালিকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনটি গাছ কেটে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সরকারি বিধি না মেনেই বিদ্যালয়ের তিনটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গাছ বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের সরকারি হিসাব বা উন্নয়ন তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের কাছে কোনো স্বচ্ছ হিসাবও নেই। গাছ কাটার আগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক কিংবা স্থানীয়দের অবহিত করা হয়েছিল কি না— তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। গাছ কাটার আগের ছবি এবং গাছগুলোর পূর্ববর্তী ও বর্তমান অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রমাণের জন্য আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মতে, এসব নথি যাচাই করলেই গাছ কাটার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।
এদিকে, গত ১৯ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া অপর এক আবেদনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দাতাদের যথাযথভাবে অবহিত না করে এবং স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এড়িয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক মতামতকে তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক নিজে প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক এককভাবে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা করছেন বলেও আবেদনে অভিযোগ করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক নাসির উদ্দিন, ডালিম আহম্মেদসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গাছ কাটার অনুমতি, গাছের প্রকৃত মূল্য, বিক্রির অর্থের হিসাব এবং ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া— সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি অর্থ উদ্ধারেরও দাবি জানান তারা।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলী পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে কোনো গাছ কাটা হয়নি। ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই