জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশমাইল এলাকা থেকে দুই গ্রাম গাঁজাসহ মিজানুর রহমান মিজান (৫১) নামের এক বহিরাগতকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশমাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়। জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে মিজানের কাছ থেকে দুই গ্রাম গাঁজা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার মাধ্যমে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক মিজানুর রহমান ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী দাবি করেন, আটক মিজানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিশতীর দাবি অনুযায়ী, অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন শহিদ সালাম-বরকত হলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. বিজয়, নতুন কলা ভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বধিব এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের নিরাপত্তাকর্মী রিপন।
চিশতী বলেন, জাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কর্মচারীদের জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাদকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাকসুর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আবু সৈয়দ বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরবর্তীতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ডেকে আটক ব্যক্তিকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যাম্পাসে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/জোই