রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নারী শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে কল করে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইলের এক যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাবি রেলস্টেশন এলাকায় তাঁকে আটক করা হয়। এসময় ওই যুবককে মারধরও করা হয়। পরে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম খন্দকার সালমান হাসান মিম। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাসিন্দা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী।
অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর সাবেক এক রুমমেটের সঙ্গে সালমানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সূত্রে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দুইদিন আগে সালমান রাজশাহীতে আসেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ওই ছাত্রীকে মুঠোফোনে কল করেন। পরদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। নম্বরটি অপরিচিত হওয়ায় ছাত্রী তাঁর পরিচয় জানতে চান। তবে পরিচয় না দিয়েই সালমান তাঁকে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
পরে বিষয়টি তিনি বন্ধু ও পরিচিতদের জানান। একপর্যায়ে তাঁকে ফোন করে কৌশলে ক্যাম্পাসে আসতে বলেন। রাত দেড়টার দিকে সালমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এলে ছাত্রীর সহপাঠীরা তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করা হয়।
প্রায় চার ঘণ্টা পর চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘উনি আমাকে রাত সাড়ে ৪টায় ফোন করে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এর জন্য তিনি টাকা দেওয়ারও প্রস্তাব দেন। পরিচয় দেওয়ার পর জানতে পারি, তিনি আমার সাবেক রুমমেটের প্রাক্তন প্রেমিক। এরপর আমি তাঁকে ক্যাম্পাসে আসতে বলি। তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দেন। আমি কৌশল করে তাঁকে ক্যাম্পাসে আনি। পরে বন্ধুদের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়।’
ঘটনার বিচার দাবি করে ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘এ ধরনের কুপ্রস্তাব একজন নারীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আনে। আমি এ ঘটনায় মামলা করার আবেদন করব। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে খন্দকার সালমান হাসান বলেন, ‘আমি এমন কোনো প্রস্তাব দিইনি। আমার মুঠোফোন থেকে অন্য কেউ কলটি করতে পারে। তাঁর সঙ্গে আমার পূর্বপরিচয় ছিল। সে কারণে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম।’
ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। ছেলেটি আপাতত থানায় আছে। তার মা টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন। তাঁকে নিয়ে এবং বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথাবার্তা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু মেয়েটিও আমাদের ছাত্রী, তাই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাতে অন্যভাবে প্রচার বা উপস্থাপন না হয়, সে বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
এদিকে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
সময়ের আলো/এনএন