শেরপুরের নকলায় অটোভ্যানচালক আব্দুল মন্নাছ হত্যার তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—নকলা উপজেলার পাঠাকাটা গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩০), ভূরদী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে শাহীন (৪০) এবং টালকি উত্তরপাড়া গ্রামের ছায়েদুল ইসলামের ছেলে স্বপন (৪২)।
পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর পশ্চিম টালকি গ্রামের অটোভ্যানচালক আব্দুল মন্নাছ (৪৩) ভাড়ায় নেওয়া একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নকলার মধ্য পাঠাকাটার বাঘমারি বিলে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নকলা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থানা-পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১৩ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মোস্তাকিনকে নকলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ ও ১৮ আগস্ট পৃথক অভিযান চালিয়ে শাহীন ও স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানান, আব্দুল মন্নাছকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ কচুরিপানার নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরে তার অটোভ্যানটি একটি ভাঙারি দোকানে ৮ হাজার টাকায় এবং ভ্যানের ব্যাটারিগুলো ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে