ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি, যাদের চারজনই কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক পরিবারের সদস্য। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার ভোররাতে নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোট ৯ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
নিহত কুষ্টিয়ার চারজন হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের দুই বছর বয়সি শিশুসন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার মো. আকরাম আলী (৬৪)।
নিহত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি আজকের খবর ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। সেখানে কলকাতার পাশাপাশি তারা চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতেও গিয়েছিলেন।
ঘটনার দিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তারা। বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই হোটেলের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল তাজা প্রাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেবাশীষ নিয়মিত তাদের এই ভ্রমণের হালনাগাদ তথ্য ও ছবি শেয়ার করছিলেন। মৃত্যুর কিছু সময় আগে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই...’। ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে মা স্বপ্না দত্ত ও বাবা দিলীপ দত্ত দিশাহারা হয়ে গেছেন।
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, দেবাশীষ আর নেই। রাতে কথা হয়েছিল, বলেছিল ব্যাগ গোছাচ্ছি, ভোরে রওনা দেব। আমার দেবাশীষকে এনে দাও তোমরা। গতকাল (মঙ্গলবার) বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসে সবার জন্য মার্কেট করেছে। সবকিছু আমাকে দেখাচ্ছিল ভিডিও কলে।
দেশে আসবে বলে ও খুব খুশি ছিল। আজ সব শেষ হয়ে গেল। একজন বাবা হয়ে কীভাবে সন্তানের মরদেহ মেনে নেব- এভাবেই আহাজারি করে কথাগুলো বলছিলেন দেবাশীষের বাবা।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, এই অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশীষ অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রিপন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে এভাবে হারানো হৃদয়বিদারক। তার এই নির্মম প্রস্থান কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরা অনেকেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে দেবাশীষ ছিলেন সবার কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে