বগুড়ার আদমদীঘিতে শয়নকক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিউল ইসলাম ফকিরের অভিযোগের পর এবার তার বিরুদ্ধেই মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে থানায় পালটা অভিযোগ করেছেন একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে আদমদীঘি থানায় এ অভিযোগ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদরের কেশরতা মৌজার ৫৬৭ নম্বর খতিয়ানের জমির মূল মালিক আজিজার রহমান শেখ, হাফিজার রহমান শেখ, জরিনা বেওয়া ও হালিমা বিবি। ওই সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে দখলস্বত্বে বসবাস করে আসছিলেন হামিদুল ফকির ও রবিউল ফকিরের পূর্বপুরুষরা। তাদের মৃত্যুর পর বর্তমানে সেখানে হামিদুল ও রবিউলের পরিবার বসবাস করে আসছে।
রবিউল ইসলাম ফকির দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে দেখতে পান, তার শয়নকক্ষে তালা দেওয়া। একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির ওই ঘরে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও প্রতিকার না পেয়ে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের পর গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে থানায় উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে শয়নকক্ষের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে হামিদুল পক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর জেরে ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ঘরের তালা খুলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে হামিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধরের অভিযোগ তুলে রবিউল ইসলাম ফকির, শাহিনুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় পালটা অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে হামিদুলের স্ত্রী দাবি করেন, রবিউল ও তার লোকজন তাদের ঘরে ঢুকে তাকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ঘটনায় মারধর বা শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও তারা এমন কোনো ঘটনার কথা জানেননি বলে দাবি করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি জোরালো করতে একই রাতে গ্রামের একটি পুরোনো অরাজনৈতিক ক্লাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্লাবের একটি ভাঙা চেয়ার ও একটি ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার দায়ও রবিউল ফকির ও তার লোকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পক্ষের লোকজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মারামারির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/এসএকে