স্কুলের পুকুর লিজের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষককে ফাঁসানোর অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

2026-08-19T21:27:10+00:00
2026-08-19T21:27:10+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
স্কুলের পুকুর লিজের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষককে ফাঁসানোর অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষকের পরিবারের দাবি, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা দেওয়া নিয়ে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি স্কুলের অফিসকক্ষে ঢুকে শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লার সঙ্গে শাহ আলমের বিরোধ চলছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা করা হয়।


ঘটনার পর ছাত্রীর হাতে লেখা বলে দাবি করা একটি অভিযোগপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়। তবে ওই অভিযোগপত্রে ছাত্রীর কিংবা তার পক্ষের কারও স্বাক্ষর ছিল না। এমনকি সেটি ছাত্রীর নিজের হাতে লেখা কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, টাকা দেওয়া এবং ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা লিখে দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র চাইলে তারা কিছুক্ষণ পর সাদা কাগজে হাতে লেখা একটি অভিযোগপত্র এনে দেন। তবে সেটি শিক্ষার্থীর নিজের হাতে লেখা কি না, তিনি নিশ্চিত নন। শিক্ষার্থীও তাঁর সামনে এসে কোনো অভিযোগ করেনি।

অভিযোগপত্রটি কে লিখেছে, জানতে চাইলে ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকার বলেন, ‘আমার ভাতিজির কথা হয়ত অন্য কেউ লিখে দিয়েছে। তবে কে লিখেছে, জানি না।’

অন্যদিকে শিক্ষকের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন স্কুলের আশপাশের অনেকেই বিষয়টি জানতেন না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আগে থেকেই সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কয়েকজন স্কুলে গিয়ে শিক্ষককে মারধর করেন।

শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, স্কুলের পুকুরের লিজের টাকা সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা চেয়েছিলেন। তাঁর স্বামী স্কুলের টাকা অন্য কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর দাবি, সেই বিরোধের জেরেই সৌরভ সরকারের নেতৃত্বে ও ইলিয়াস মোল্লার ইন্ধনে শিক্ষককে মারধর করা হয়। পরে ঘটনাটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ হিসেবে সামনে আনা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ইলিয়াস মোল্লা। তিনি বলেন, শিক্ষক শাহ আলমকে তিনি চেনেনই না এবং তাঁর সঙ্গে কখনো কথা হয়নি। স্কুলের পুকুর লিজের টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ জানান, ইলিয়াস মোল্লা তাঁর চাচা শ্বশুর। তবে শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে ইলিয়াস মোল্লার পূর্ববিরোধের বিষয়ে তিনি অবগত নন। পুকুর লিজের টাকা নিয়ে আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ছাত্রীর বাড়ি থেকে ফিরে স্কুলে প্রবেশের পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি অফিসকক্ষে ঢুকে শাহ আলমের ওপর হামলা করেন। কেন তারা এমন হামলা চালিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।


ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, ১০-১২ জন ব্যক্তি শিক্ষককে মারধর করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে ছাত্রীর নিপীড়নের অভিযোগও পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, স্থানীয়রা শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আটকে রাখার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ইসিজি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেখেছে।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্কুলের অফিসকক্ষে ঢুকে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   স্কুল  পুকুর  লিজ  টাকা  শিক্ষক  অভিযোগ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: