সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ বা কমিউনিটি মানদণ্ড লঙ্ঘনকারী শব্দ বা বাক্য ব্যবহারের কারণে যেকোনো পোস্ট বা মন্তব্য মুহূর্তেই মুছে ফেলা হতে পারে। বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাশেবল’-এর প্রতিবেদনে ফেসবুকের সেন্সরশিপ প্যাটার্ন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলীর বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়—
সহিংসতা ও উস্কানি : কাউকে সরাসরি শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সাধারণ গালিগালাজকে অ্যালগরিদম অনেক সময় ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করে না।
ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্য (হেইট স্পিচ) : কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়কে হেয় করে কথা বলা (যেমন : কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বোকা বা নোংরা বলা) কিংবা প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিলে তা হেইট স্পিচ হিসেবে গণ্য হয়।
নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠন : সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি ও সংগঠনের (যেমন : শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী দল) প্রশংসা বা সমর্থনে ব্যবহৃত শব্দ ও প্রতীক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
যৌন উত্তেজক ভাষা ও নগ্নতা : যৌনতা বা শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গের বর্ণনা সংবেদনশীল ফিল্টারে ধরা পড়ে। এমনকি সামঞ্জস্যহীন ডিজিটাল শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি রয়েছে।
এছাড়া ‘ইন্টারনিউজ’-এর গবেষণায় জানা যায়, ইন্টারনিউজের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকের অটোমেটেড সিস্টেম অনেক সময় শব্দের সঠিক অনুবাদ বা প্রসঙ্গের গভীরতা বুঝতে ভুল করে। উদাহরণস্বরূপ, আরবিতে ‘সহিংসতার ডাক’-কে ভুল অনুবাদ করে ‘ফোন কল’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছিল।
বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ‘ধর্মীয় কোরবানি’ বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের নাম (যেমন- মসজিদ বনাম উপাসনাস্থল) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুবাদের পার্থক্যের কারণে অনেক সময় পোস্টের রিচ কমে যায় বা ভুলবশত ফ্ল্যাগ করা হয়।
ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কতা
ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক সময় রূপক অর্থ বা ব্যঙ্গাত্মক ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাই বিতর্কিত কোনো শব্দ ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনের সময় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ‘স্লাল লিস্ট’ বা নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও ম্যাশেবল
সময়ের আলো/জেডি