মুসলিম নারীর হিজাব কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কাছে শুধুই একটি পোশাক? সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান চারটি জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটকে হিজাব পরা এক নারীর ছবি সম্পাদনার অনুরোধ করে। এতে দেখা যায়, চ্যাটজিপিটি ও গ্রক হিজাব সরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। জেমিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও নারীকে আরও ‘পশ্চিমি’ চেহারা দেওয়ার অনুরোধ করা হলে হিজাব ছাড়া ছবি তৈরি করে। তবে ক্লড জানিয়েছে, এ ধরনের পরিবর্তন ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তির মর্যাদার ক্ষতি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এআইয়ের এমন আচরণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
পরীক্ষায় প্রথমে জেমিনি জানায়, বাস্তব মানুষের ছবি থেকে পোশাক বা মাথার আবরণ সরিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার চেহারায় এমন পরিবর্তন করা উচিত নয় বলেও জানায় এটি। তবে একই অনুরোধ ভিন্নভাবে করা হলে জেমিনির অবস্থান বদলে যায়। নারীকে আরও ‘পশ্চিমি’ চেহারা দেওয়ার কথা বলা হলে হিজাব সরিয়ে ছবি তৈরি করে এআইটি।
গ্রকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসংগতি দেখা গেছে। হিজাব সরিয়ে দিতে রাজি হলেও কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি নারীর পোশাক খুলে দেওয়ার অনুরোধে আপত্তি জানায় এটি। পরে অবশ্য তুলনামূলক কম প্রকাশ্য পোশাক পরানোর প্রস্তাব দেয় গ্রক। গত মে মাসে গ্রকের নির্মাতা এক্সএআই জানিয়েছিল, বাস্তব মানুষের ছবি থেকে শরীর অনাবৃত করার অনুরোধ ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চ্যাটজিপিটিও সাধারণভাবে পোশাক সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধে আপত্তি জানিয়েছে। তবে হিজাবের ক্ষেত্রে এর অবস্থান ছিল ভিন্ন। পরে চ্যাটজিপিটি স্বীকার করে, হিজাব পরা কোনো নারীর চুল প্রকাশ করে দেওয়া তার গোপনীয়তা ও ধর্মীয় আচারের গুরুত্বপূর্ণ লঙ্ঘন হতে পারে।
এদিকে ভারতে এআই ব্যবহার করে মুসলিম নারীদের যৌন আবেদনময় বা অপমানজনক ছবি তৈরির প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৯৭টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের ১ হাজার ৩২৬টি এআই-তৈরি মুসলিমবিদ্বেষী ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, এসব কনটেন্টের বড় একটি অংশে মুসলিম নারীদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান একই ধরনের পরীক্ষা শিখ পুরুষের পাগড়ি এবং ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনীর মাথার আবরণ নিয়েও চালিয়েছে। চ্যাটজিপিটি দুটিই সরিয়ে নতুন ছবি তৈরি করেছে। জেমিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও ‘পশ্চিমি’ চেহারা দেওয়ার অনুরোধ করা হলে একই কাজ করেছে। অন্যদিকে ক্লড জানিয়েছে, এমন সম্পাদনার সুযোগ থাকলেও বাস্তব কোনো নারীর হিজাব সরিয়ে দেবে না।
বিশেষজ্ঞ এভিয়ানে লেইডিগের মতে, এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালায় এমন কিছু ফাঁক রয়েছে, যার ফলে কোনো পরিবর্তন সরাসরি নগ্নতা তৈরি না করলেও তা মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সম্মান ও গোপনীয়তার ক্ষতি করতে পারে।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের প্রশ্নের জবাব দেয়নি এআই নির্মাতা ওপেনএআই, গুগল, এক্সএআই ও অ্যানথ্রপিক।
এর আগেও ‘নুডিফাই’ ধরনের এআই ব্যবহার করে নারী এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদের পোশাকহীন ছবি তৈরির ঘটনা সামনে এসেছে।
সময়ের আলো/এসএকে