গুগল সার্চে নিজের ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা বা বাসার ঠিকানা প্রকাশ্যে দেখা গেলে তা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা এসব তথ্য গুগলের ‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ সুবিধার মাধ্যমে খুঁজে দেখা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সার্চ ফলাফল থেকে এসব তথ্য সরানোর জন্য অনুরোধও করা যায়। পাশাপাশি নতুন কোনো সার্চ ফলে ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া গেলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তা জানার সুযোগ রয়েছে।
‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ চালু করবেন যেভাবে
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্রথমে গুগল অ্যাপ খুলে ওপরের দিকে থাকা প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর ‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ নির্বাচন করতে হবে। চাইলে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকেও গুগলের ‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ পেজে প্রবেশ করা যায়।
সেখানে ‘গেট স্টার্টেড’ নির্বাচন করে নিজের নাম লিখতে হবে। কেউ অন্য নামে বা ডাকনামে পরিচিত হলে সেটিও যোগ করা যাবে। এরপর ‘কনটিনিউ’ নির্বাচন করতে হবে।
যে তথ্যগুলো খুঁজতে চান, সেগুলো যোগ করুন
পরের ধাপে গুগল সার্চে নিজের কোন কোন ব্যক্তিগত তথ্য খুঁজে দেখতে চান, তা নির্ধারণ করতে হবে। এখানে এক বা একাধিক ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা ও ই-মেইল ঠিকানা যোগ করা যায়।
কিছু অঞ্চলে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বরও পর্যবেক্ষণের জন্য যোগ করার সুবিধা রয়েছে। তথ্যগুলো যোগ করার পর ‘কনটিনিউ’ চাপতে হবে।
নোটিফিকেশন চালু করুন
এরপর ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো মিল সার্চে পাওয়া গেলে কোথায় নোটিফিকেশন পেতে চান, তা নির্বাচন করতে হবে। বর্তমানে ই-মেইল ও গুগল অ্যাপের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করে নিজের তথ্য ব্যবহারের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ‘সেভ’ চাপলেই ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য গুগলের পর্যবেক্ষণ শুরু হবে। সাধারণত প্রথমবারের স্ক্যান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।
সার্চে নিজের তথ্য পাওয়া গেলে যা করবেন
ব্যক্তিগত তথ্যযুক্ত কোনো সার্চ ফলাফল পাওয়া গেলে ‘রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ’ পেজের ‘টু রিভিউ’ অংশে সেটি দেখা যাবে। সেখানে কোন ওয়েবসাইটে তথ্যটি রয়েছে এবং কী ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া গেছে, তা যাচাই করতে হবে।
তথ্যটি সরানো প্রয়োজন হলে ‘রিকোয়েস্ট টু রিমুভ’ নির্বাচন করে গুগলের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এরপর সার্চ ফলাফল থেকে ওই তথ্য সরানোর জন্য অনুরোধ পাঠানো যাবে।
তবে গুগল সার্চ থেকে কোনো লিংক সরানো আর মূল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য মুছে ফেলা এক বিষয় নয়। গুগল সার্চ থেকে লিংক সরানো হলেও মূল ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যটি থেকে যেতে পারে।
তাই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কাছেও তা সরানোর অনুরোধ করতে হবে। একইভাবে অন্য কোনো ওয়েবসাইটে তথ্য থাকলে ওই ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
তবে সরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটের তথ্য সরানোর অনুরোধ গুগল নাও মঞ্জুর করতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত হলে গুগলের পাশাপাশি যে ওয়েবসাইটে তথ্যটি রয়েছে, তাদের কাছেও তা সরানোর অনুরোধ করা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জোই