এভারকেয়ার হাসপাতালের নার্সদের আচরণ ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিতার্কিক ও সংবাদ উপস্থাপক জাফর সাদিক। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী ও স্বজনদের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল হিসেবে এভারকেয়ারের সুনাম রয়েছে। হাসপাতালটির অবকাঠামো, চিকিৎসক, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ আধুনিক। তবে এসবের বিপরীতে নার্সদের একাংশের আচরণ ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার হতাশা তৈরি হয়েছে।
জাফর সাদিক জানান, তার মেজ বোনের স্বামী ৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি ব্রেইন টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য এভারকেয়ারে ভর্তি হয়েছেন। অস্ত্রোপচার সফল হলেও তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। আইসিইউ থেকে তাকে বেডে দেওয়ার পর তার বোন গত তিন দিন ধরে স্বামীর পাশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার বোনের স্যানিটারি প্যাডের প্রয়োজন হয়। রাতে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও কেবিন ব্লকে বাইরের মানুষের চলাচল সীমিত থাকায় তিনি ডিউটি নার্সদের কাছে বিষয়টি জানান। হাউসকিপিংয়ের মাধ্যমে নিচ থেকে প্যাড এনে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পরে তিনি নিজে নার্সদের কাছে গিয়ে জরুরি পরিস্থিতির কথা জানিয়ে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও সহযোগিতা না করে নার্সরা উচ্চস্বরে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকেন বলে অভিযোগ তার। আশপাশে গুরুতর অসুস্থ রোগী থাকার কথা জানিয়ে আস্তে কথা বলার অনুরোধ করলেও তারা তা মানেননি বলে দাবি করেন জাফর সাদিক।
পরে নিজেই হাসপাতালের মেডিসিন স্টোরে গিয়ে প্যাড কিনতে চাইলে তাকে কাউন্টার থেকে বিল করার কথা বলা হয়। রাত হওয়ায় কাউন্টার বন্ধ থাকলে তাকে জরুরি বিভাগের গেটের একটি কাউন্টারে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়েও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন জাফর। তার দাবি, কাউন্টারে থাকা কর্মীকে বিল করার কথা বললেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বাইরে গিয়ে প্যাড কিনে আবার হাসপাতালে ফিরতে হয় তাকে। ফেরার সময় নিরাপত্তাকর্মীর কাছেও বাধার মুখে পড়ার কথা জানান তিনি। হাতে থাকা ব্যাগ দেখে সেটিকে খাবার মনে করে গার্ড তাকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন। পরে ব্যাগে স্যানিটারি প্যাড রয়েছে জানালে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।
এই ঘটনার পর এভারকেয়ারের সেবাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাফর সাদিক। তার মতে, একটি আধুনিক হাসপাতালে জরুরি প্রয়োজনে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা উচিত। অন্তত বিভিন্ন ফ্লোরে ভেন্ডিং মেশিন থাকার কথা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত তিন দিনে নার্সদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা দেখেছেন। তার সামনেই ক্যানোলা ও নেবুলাইজার দেওয়ার জন্য নার্সদের বারবার ডেকেও না পেয়ে অন্তত দুইজন রোগীর স্বজনকে অসহায় অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান তিনি।
জাফর সাদিক বলেন, শুধু অবকাঠামো, দামি খাবার বা ঝকঝকে পরিবেশ থাকলেই একটি হাসপাতালকে ‘ফাইভ স্টার’ বলা যায় না। রোগী ও স্বজনদের প্রতি কর্মীদের আচরণ এবং সেবার মানও গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি বলেন, গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ারে যাওয়ার আগে টাকা খরচ করেও পূর্ণাঙ্গ সেবা না পাওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া উচিত।
সময়ের আলো/কেএইচ