চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের প্রাণহানির পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে ফের বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ও নতুন দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে এই ট্র্যাজেডির পর নিহতদের স্বজন ও উদ্ধারকারীদের পাশে না দাঁড়িয়ে শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) শীর্ষ নেতারা গা-ঢাকা দিয়েছেছে। এতে ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে নিহত, আহত শ্রমিক ও স্বজনরা।
পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট জাহাজের চারটির মধ্যে তিন নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাটিংয়ের সময় বিষাক্ত গ্যাসে এখন পর্যন্ত ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে অক্ষত থাকা এক ও দুই নম্বর ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানিতেও বিষাক্ত গ্যাস বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত জাহাজটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকের তলদেশে কালো রঙের ঘন স্লাজ পাওয়া গেছে, যা রাসায়নিক উপাদান বা আটকে থাকা গ্যাসের মূল উৎস হতে পারে। স্লাজ বা পানি নাড়াচাড়া করলে নতুন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পরীক্ষা শেষে নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসমুক্ত ঘোষণা ছাড়া কাজ না করার দাবি জানিয়েছেন।
বিএসবিআরএ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?
দশ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বিএসবিআরএ-এর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় আহত, নিহতদের পরিবার বা উদ্ধারকারীদের পাশে সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়নি। সভাপতিসহ একাধিক নেতার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তাদের বাসাবাড়িতেও অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
জীবন বাজি রেখে সাত মরদেহ উদ্ধার করা সাইফুল গনি জানান, উদ্ধারের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়লেও সংগঠনের কোনো নেতা খোঁজ নেননি। অন্যান্য ইয়ার্ড মালিকদের ধারণা, জনরোষের আশঙ্কায় দায়িত্বশীল নেতারা আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।
বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিএসবিআরএ পৃথকভাবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। গ্যাস-ফ্রি সনদের বৈধতা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার দুর্বলতা তদন্তে প্রাধান্য পাচ্ছে। নিখাদ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিতকরণ, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং শিপব্রেকিং শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি এখন সর্বমহলে।