চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগরে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে’ বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম ইদ্রিস আলী (৫০)। তিনি জামালপুর জেলার বাসিন্দা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এতে করে এই দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও ন্যাশনাল হাসপাতালের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. ফারুক ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট সকালে কারখানায় ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরোনো জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইদ্রিস আলীসহ আরও ছয়জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয় দিন ধরে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানেন ইদ্রিস।
ঘটনার পর বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর ও বিস্ফোরক পরিদফতরের যৌথ উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতির আশঙ্কা করা হলেও, বিলম্বিত পরিদর্শনের কারণে বাতাস থেকে নমুনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং’কে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর।
সময়ের আলো/জোই