চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর তিন দিন পর অবশেষে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জাহাজের অভ্যন্তরে বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি থাকার কারণে এতদিন কোনো দল প্রবেশ করতে না পারলেও, সোমবার (১৭ আগস্ট) নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার জাহাজটি পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বিশেষজ্ঞ দলটির।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ তীব্র বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্তকারীদের প্রবেশ আটকে ছিল।
সোমবার সকালে শিল্প মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস এবং বিএসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাহাজের ওপরের অংশ পর্যন্ত পরিদর্শন করেন।
বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে গঠিত ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার উৎস, গ্যাসের প্রকৃতি ও লিকেজ নির্ধারণে কাজ করছে।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে নতুন করে কোনো বিষাক্ত গ্যাস পাওয়া যায়নি। তবে সাগরের জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার পুনরায় জাহাজটি পরিদর্শন করবে বিশেষজ্ঞ দলটি।
অন্যদিকে, তদন্ত কমিটিতে পরিদর্শনের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেনসহ নতুন চারজন সদস্যকে তদন্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্টের সিইও মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে তদন্ত কাজ চালানো হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।
সময়ের আলো/আতা