ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর ক্রিকেট বিশ্বের একটি অংশ যখন টাইগারদের ৯ উইকেটের জয়কে ‘অঘটন’ বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বাস্তবতার জমিনে দাঁড়িয়ে পুরো ভিন্ন কথা বললেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শান্ত-হাসানদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও জয়কে পুরোপুরি প্রাপ্য উল্লেখ করে কামিন্স স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ একটি বেশ ভালো দল এবং তাদের এখনকার আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসকে দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।
আগামীকাল শনিবার (২১ আগস্ট) থেকে ম্যাকায়ের ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা’-য় শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক দ্বিতীয় টেস্টের আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অজি দলপতি। ডারউইন টেস্টের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে কামিন্স কোনো অজুহাত না দেখিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যদি আমরা খুব ভালো খেলেও হেরে যেতাম, তবে হয়তো অন্য কিছু ভাবার সুযোগ থাকত। কিন্তু আমার মনে হয়, আমরা আমাদের সেরা খেলার ধারেকাছেও ছিলাম না। বাংলাদেশ চমৎকার ক্রিকেট খেলেছে এবং এই জয়টা তাদের পুরোপুরি প্রাপ্য।"
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যে কেবল একটি ম্যাচ জিতে চমক দেখায়নি, বরং তাদের দীর্ঘদিনের অগ্রগতির ফল এটি, তা স্মরণ করিয়ে দিতে ২০১৭ সালের ঢাকা টেস্টের কথা টেনে আনেন কামিন্স। তিনি বলেন, "২০১৭ সালেও তারা আমাদের বিপক্ষে জিতেছিল। ফলে তাদের এই জয় এবারই প্রথম নয়। বাংলাদেশ সত্যিই বেশ ভালো ক্রিকেট দল। ডারউইনের এই জয়ের পর তারা ম্যাকায়ে প্রচুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। এই শক্তিশালী আত্মবিশ্বাসের মোকাবিলা করাই এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।"
প্রথম ম্যাচে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় থাকলেও দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানোর অতীত রেকর্ডকে পুঁজি করতে চান কামিন্স। তিনি জানান, "অতীতের ভালো ম্যাচগুলোর কথা আমরা ভাবছি। এই সিরিজের জন্য আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভালো ছিল এবং সবাই দারুণ ছন্দে আছে। প্রথম ম্যাচের ফল নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য আদর্শ ছিল না, তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ম্যাচে সেই ছন্দ কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং বেশি ম্যাচ জেতা।"
এদিকে, টেস্ট ক্রিকেটের ১২তম অস্ট্রেলীয় ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় শহর ম্যাকায় নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। বড় বড় শহরের বাইরে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে কামিন্স বলেন, "ক্যালেন্ডারে নতুন নতুন ম্যাচ যুক্ত করা কঠিন। কিন্তু আমি অবশ্যই বারবার এখানে খেলতে আসতে চাইব। এখানকার সুযোগ-সুবিধা ও অনুশীলনের পরিবেশ এক কথায় চমৎকার। বড় শহরের বাইরে যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ এক উদ্যোগ।"
সময়ের আলো/টিকে