বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা প্রমাণ করে এবং প্রায় ১১ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও পেশাদার ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনহো গাউচো। ৪৬ বছর বয়সে ইতালির তৃতীয় স্তরের (সেরি সি) ক্লাব রাভেনা এফসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে তিনি ফুটবলবিশ্বকে এক বিরাট চমক উপহার দিয়েছেন। মারিনা দি রাভেনা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত ক্লাবের এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে হাজারো সমর্থকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই তারকাকে, যেখানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই বিখ্যাত ‘১০’ নম্বর জার্সি।
২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের হয়ে খেলার পর বুট জোড়া তুলে রেখেছিলেন সাবেক এই বার্সেলোনা ও এসি মিলান তারকা। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেরই ধারণা ছিল, পেশাদার ফুটবলে রোনালদিনহো অধ্যায়ের হয়তো চিরতরে ইতি ঘটেছে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবার তিনি মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, রাভেনা এফসির শেয়ারহোল্ডার বা মালিকানার অংশীদার হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন রোনালদিনহো।
ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ৪৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান জাদুকর বলেন, "অবশ্যই আমি দলের হয়ে অফিসিয়াল ম্যাচে মাঠে নামব। এটি আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠে ফিরে কতক্ষণ খেলতে পারব তা সময় বলে দেবে, তবে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।"
তবে এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে কেবল প্রচারণামূলক উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি রোমান্টিক লক্ষ্যও লুকিয়ে আছে। রাভেনা ক্লাবের মালিক ও সভাপতি ইগনাসিও চিপ্রিয়ানির ইচ্ছা, রোনালদিনহো যেন তার ক্যারিয়ারের ৩০০তম কিংবা শেষ গোলটি এই রাভেনা ক্লাবের হলুদ-লাল জার্সি গায়ে চাপিয়েই করেন। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত রোনালদিনহো জানান, "যদি সত্যিই ৩০০তম গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে পারি, তবে তা হবে অত্যন্ত চমৎকার। আমি মূলত বন্ধুদের আমন্ত্রণে ও ক্লাবের সুন্দর প্রজেক্টের অংশ হতে এখানে এসেছি।"
ইতালির প্রাচীন ক্লাবে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে নামা এই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এখনই লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামছেন না। কোচ আন্দ্রেয়া মানদোরলিনির অধীনে ফিটনেস ঝালাই করার পরই তাঁর কাঙ্ক্ষিত অভিষেক ঘটবে। যা-ই হোক না কেন, ফুটবলপ্রেমীরা এখন আবারও সেই অনন্য হাসি আর পায়ের জাদুকরী ড্রিবলিং দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
সময়ের আলো/টিকে