ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে গ্যাস সংকটে ধুঁকছে শিল্প খাত

এসএম আলমগীর

জাতীয়

একের পর এক ধাক্কা লাগছে দেশের শিল্প খাতে। শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের রফতানি অর্ডার কমেছে। ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়েছে। চাহিদামাফিক মিলছে

2026-08-22T00:44:11+00:00
2026-08-22T00:44:11+00:00
 
  শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে গ্যাস সংকটে ধুঁকছে শিল্প খাত
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একের পর এক ধাক্কা লাগছে দেশের শিল্প খাতে। শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের রফতানি অর্ডার কমেছে। ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়েছে। চাহিদামাফিক মিলছে না ডলার, প্রয়োজনীয় এলসি খোলা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার একসঙ্গে শুরু হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট। বর্তমানে দেশের শিল্প খাত এত বড় আর কোনো একক সংকটে নেই। শিল্প এখন বহুমুখী সংকটের মধ্যে পড়েছে। 

গ্যাস-বিদ্যুৎ, ডলার, সুদ, কাঁচামাল চাহিদা- সব দিক থেকেই চাপে পড়েছে শিল্প-বাণিজ্য। ফলে শিল্পের উৎপাদন কমছে, রফতানি আয় কমছে, বিনিয়োগ থেমে গেছে। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, এফবিসিসিআইর নেতারা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে হাজারো কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। দীর্ঘ দিনের সংকট কাটিয়ে শিল্প উদ্যোক্তারা যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ছিলেন, সে আশা এখনও পূরণ হয়নি বলে মত উদ্যোক্তাদের। 

জ্বালানি সংকট দেশের শিল্প খাতকে এখন সবচেয়ে বেশ ভোগাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ নেই শিল্প এলাকায়। দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। এর ফলে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

শিল্প মালিকরা বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও এলপিজি ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। কাঁচামাল আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংক এলসি খুলতে চাচ্ছে না। ফলে তুলা, সুতা, রাসায়নিক, মেশিনারিজ আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্র বলছে- ৩৫ শতাংশ স্পিনিং মিল কাঁচামালের অভাবে ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। অর্থাৎ এ খাতের মিলগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। 

এ ছাড়া উচ্চ সুদহারও উদ্যোক্তাদের ভোগাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের সুদ নেওয়া হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। এর ফলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। ছোট-মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারছে না। অনেক উদ্যোক্তা খেলাপির ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন। 

দেশীয় এসব সংকটের পাশাপাশি দেশের বাইরের নানা রকম প্রতিবন্ধকতায়ও পড়তে হচ্ছে এখন শিল্প খাতকে। চাহিদা সংকটে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতারা অর্ডার কমিয়েছে। 

গার্মেন্টসে নতুন অর্ডার গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছ। এর সঙ্গে বিলম্বে শিপমেন্টের জন্য বায়াররা পেনাল্টি কাটছে। কাঁচামাল ও পরিবহন খরচে ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়েছে। শিপিং কস্টও বেড়েছে বেশ খানিকটা। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রি দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া নীতিগত অনিশ্চয়তাও রয়েছে এখন শিল্প খাতে। বিশেষ করে কর, ভ্যাট, শুল্ক নীতিতে রদবদল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছে না।

কোন খাতে সংকটের মাত্রা কেমন : তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্ডার কমে যাওয়ায় এ খাতের উৎপাদন কমেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এ খাতের ৫০০ টিরও বেশি কারখানা লে-অফ ঘোষণা দিয়েছে। সিরামিক শিল্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় ১০টির বেশি সিরামিক শিল্প-কারখানার আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। 

চামড়া শিল্পে এলসি জটিলতা এবং বিশ্ব বাজারে চাহিদা কমায় এর রফতানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতে ডলার সংকট ও উচচ সুদের কারণে ছোট উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা বন্ধের পথে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিদ্যুৎ সংকট ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে আরও অন্যান্য খাতেও নানাভাবে সংকট ঘিরে ধরেছে।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে : শিল্প খাতের এই বহুমুখী সংকটের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। রফতানি আয় ও রিজার্ভের ৮৪ শতাংশ আসে শিল্প খাত থেকে। শিল্প আটকে গেলে ডলার আয় কমবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে। একইভাবে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। 

দেশে শুধু শিল্পে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ কাজ করে। উৎপাদন কমায় শ্রমিকের ওভারটাইম বন্ধ হয়েছে। ফলে তাদের মাসিক আয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা কমে গেছে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্প এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। ফলে শত শত শ্রমিক বেকার হচ্ছে। আর শ্রমিকরা বেকার হওয়ায় সমাজের ওপর চাপ বাড়ছে বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

এসব নানামুখী সংকটের প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগের ওপরও। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জ্বালানির নিশ্চয়তা যেমন চান তেমনি ডলারের সহজলভ্যতা ও সহজে নীতি-সহায়তা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চান। অথচ ৩টিই বিগত কয়েক বছর ধরেই ঠিকমতো পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। ফলে নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। উল্টো কেউ কেউ চলমান কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শিল্প সংকটের প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতির ওপরও। উৎপাদন কম ও খরচ বেশি হওয়ায় দেশীয় বাজারে সিমেন্ট, স্টিল, প্লাস্টিক পণ্য এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : সরকারের পক্ষ থেকেও অনুধাবন করা হচ্ছে শিল্পের চলমান সংকটগুলোকে। এ জন্য সরকার সংকটগুলো দূর করতে কিছু উদ্যোগও নিচ্ছে। যেমন- জ্বালানি সংকট দূর করতে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের দিকেও ঝুঁকছে সরকার, তবে এ ক্ষেত্রে সময় লাগবে। সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। 

বিশেষ করে রফতানিমুখী শিল্পের জন্য ডলার বরাদ্দে অগ্রাধিকার এবং সুদহার সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এনার্জি সক্ষমতা বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শিল্প মালিকরা বলছেন- সরকারের উদ্যোগ আছে কিন্তু বাস্তবায়নে ধীরগতি হচ্ছে। এ কারণে সহসাই সুফল মিলছে না।

কী বলছেন শিল্প মালিকরা : বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প মালিকরা সবার আগে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট দূর করার কথা বলছেন। পাশাপাশি শিল্পে চলমান যেসব সংকট রয়েছে সেগুলোরও দ্রুত অবসান চাচ্ছেন। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এই মুহূর্তে দেশের শিল্প খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যার স্বল্পমেয়াদি সমাধান করা সম্ভব নয়, কারণ সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী তা সমাধানের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদে তাৎক্ষণিক বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ চেয়েছেন- এসব সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। সরকারের এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কিছু এলএনজি আমদানি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব‍্যাংকের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও ব‍্যাংকিং খাতের সমস‍্যাগুলো এখনও সমাধান হয়নি। একদিকে ব্যাংকের সুদ ১৫ শতাংশ, অন্যদিকে মিলছে না গ্যাস। কাঁচামাল কিনতে গিয়ে মিলছে না পর্যাপ্ত ডলার। এই অবস্থায় কারখানা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা সরকারকে বলেছি, সমস্যাগুলো একটা একটা করে দ্রুত সমাধান করুন। সব একসঙ্গে সমাধান না হলেও অন্তত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সবার আগে দূর করুন। 

তা-না হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ বহুমুখী সংকটের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও আমরা নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। বিশেষ করে আমাদের যারা ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তারা আমাদের কাছে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। আমরা সময়মতো পণ্য তাদের কাছে পাঠাতে পারব কি না- সেটি জানতে চাচ্ছেন বারবার। যদিও আমরা তাদের জানচ্ছি, আমরা সময়মতোই পণ্য পাঠাব, তারপরও তারা আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এ কারণে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো রফতানি আদেশ বাতিল করে অন্য দেশে নিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য চরম উদ্বেগের।

আরেক ব্যবসায়ী নেতা ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক সময়ের আলোকে বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ কয়েক বছর থেকেই নানা রকম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই সংকটগুলোর ডালপালা গজিয়েছে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর সংকটের সেই ডালপালা আরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেশের শিল্প খাতকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে ধরেছে। এই রকম পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ করবেন তো দূরের কথা- চলমান শিল্প-কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল তাদের কাছে। ফলে উদ্যোক্তারা ও শিল্প মালিকরা আশায় ছিলেন, কবে একটি নির্বাচিত সরকার আসবে এবং কবে সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের মানুষের মতো আমরা যারা উদ্যোক্তা তারাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম- একটি নির্বাচিত সরকার আসার। সেই কাক্সিক্ষত নির্বাচন হয়েছে, দেশে নতুন সরকারও এসেছে। আমরা এতে আশাবাদী হয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এর পর দেশের অভ্যন্তরে একের পর এক সংকট দেখা দিল। 

সবশেষ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এতটাই প্রকট আকার নিয়েছে যে, আমরা শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যাশায় ছিলাম সেটি আর হচ্ছে না। বর্তমান সরকার নানা রকমভাবে চেষ্টা করছে সংকট দূর করার। আমরাও দেখতে পাচ্ছি- অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের কিছু করার নেই। অতীতের নানা রকম সংকটের জের টানতে গিয়ে বর্তমান সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তরপরও আমরা নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছি- শিল্পের চলমান সংকটগুলো দূর করে শিল্পের স্বাভাবিক গতি আনতে সহায়তা করবে।

অর্থনীতিবিদরা যা বলছেন : অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শিল্প খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, কারণ ঘুরে দাঁড়ানোর মতো রসদ মিলছে না। এ মন্তব্য করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বর্তমানে দেশের শিল্প খাতে যে সংকট চলছে তা আলাদা নয়, একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। গ্যাস নেই বলে উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদন কমলে রফতানি কমে যাচ্ছে। রফতানি কমলে ডলার আসা কমবে। ডলার কমলে কাঁচামাল আমদানির ওপর প্রভাব পড়ছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে রকম উদ্যোগ নেওয়ার দরকার ছিল- সে রকমটি নেওয়া হচ্ছে না। 

বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের অভাব দেখা যাচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলছে। কিন্তু আজকের গ্যাসের সমাধান কী, তার কোনো জবাব মিলছে না। এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বড় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত তো হচ্ছেই, দেশের ছোট উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বড় কোম্পানিগুলোর হয়তো অন্যান্য ব্যাক-আপ আছে, কিন্তু ছোট উদ্যোক্তারা দুই মাসও টিকতে পারছে না, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের কারখানা। তাই শিল্পের সংকটগুলো দ্রুত সমাধান করা দরকার।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   ঘুরে দাঁড়াতে  গ্যাস সংকট  শিল্প খাত  উৎপাদিত পণ্য  রফতানি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: