সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়া এখন খুবই সাধারণ। তবে অপরিচিত কারও সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের ফাঁদ পাততে পারে প্রতারকরা। একে অনেক সময় ‘হানি ট্র্যাপ’ বলা হয়।
সম্পর্কটি সত্যি নাকি প্রতারণার কৌশল, তা বুঝতে কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখা দরকার। যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন যে আপনি হানিট্র্যাপে পড়েছেন :
দ্রুত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা
পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ, সারাক্ষণ কথা বলার চাপ বা দ্রুত প্রেমের প্রস্তাব সন্দেহের কারণ হতে পারে। এমন আচরণ অনেক সময় বিশ্বাস অর্জনের কৌশল হয়ে থাকে।
পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা
প্রোফাইলে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কথাবার্তার মিল না থাকা, ভিডিও কলে আসতে অনীহা কিংবা নিজের পরিচয় সম্পর্কে বারবার এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে সতর্ক হতে হবে। ভুয়া ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণা করা হতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া
বাসার ঠিকানা, কর্মস্থল, আয়, পরিবারের সদস্য, দৈনন্দিন চলাফেরা কিংবা ব্যক্তিগত নথির তথ্য জানতে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখালে তা সহজভাবে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন ছাড়া এসব তথ্য শেয়ার না করাই নিরাপদ।
ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চাওয়া
সম্পর্কে বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পর ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও কিংবা ভিডিও কলে এমন কিছু করতে বলা হতে পারে, যা পরে ব্ল্যাকমেলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই এ ধরনের অনুরোধে রাজি হওয়ার আগে ঝুঁকি বিবেচনা করুন।
হঠাৎ টাকা চাওয়া
অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে দ্রুত টাকা চাইলে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাই করুন। প্রয়োজনে অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে তথ্য নিশ্চিত করুন।
ব্ল্যাকমেলের মুখে পড়লে
ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করলে অর্থ পরিশোধ করে সমস্যা মিটবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং চ্যাট, স্ক্রিনশট ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করুন। এরপর অ্যাকাউন্টটি ব্লক ও রিপোর্ট করে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।
অনলাইনে তৈরি হওয়া সব সম্পর্কই প্রতারণার নয়। তবে নতুন কারও প্রতি বিশ্বাস তৈরি করার আগে পরিচয় যাচাই এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাই ‘হানি ট্র্যাপ’ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সময়ের আলো/এমকে