খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাস পেরোতেই আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এক রাতের টানা ভারী বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বেড়ে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রায় নয় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কবাখালী, জামতলী ও মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, সড়কের বিভিন্ন অংশ ও ফসলের মাঠ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশও পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এসব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি আরও বাড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতভর বৃষ্টির পর ভোররাতে হঠাৎ করে ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ঘরের আঙিনা ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটিয়েছেন। গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না-পারা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার শুভতি চাকমা জানান, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে টানা প্রায় নয় ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রাত ১২টার পর থেকে রেকর্ড করা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৩ মিলিমিটার।
এর আগে গত ৮ থেকে ১২ জুলাই টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালাসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ওই বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও বন্যার কবলে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ জানান, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়েছে। বন্যা পরিস্থিতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই