ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘শক্তিশালী নেতা’র ভাবমূর্তি ধরে রাখা ৭৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন ধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণদের আকৃষ্ট করতে তিনি এখন আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার খোলস থেকে বেরিয়ে ইনস্টাগ্রামে ইনফরমাল বা আনফিল্টারড ‘ক্যান্ডিড’ রিলস, সেলফি-ধাঁচের ভিডিও এবং তরুণদের উদ্দেশে ‘বন্ধুরা’ সম্বোধনে স্বতঃস্ফূর্ত বার্তা প্রকাশ করছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে সম্প্রতি সংঘটিত যুব আন্দোলনের পর জেন-জি ভোটারদের মানসিকতা বুঝতে পেরে মোদি ও তার দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। মোদির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৬০ লাখের বেশি অনুসারী থাকলেও, আগে ঐতিহ্যবাহী প্রচারণার বাইরে সরাসরি তরুণদের সাথে ফ্রেন্ডলি ভাবমূর্তিতে তাকে দেখা যেত না।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, যারা ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধান অনুঘটক বা বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবেন। তাই ভবিষ্যৎ রাজনীতির তাগিদেই এই নতুন কৌশল।
তবে বিজেপির এই নতুন পদক্ষেপ সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। মোদির প্রথম সেলফি-ভিডিও রিল ৪০ কোটিরও বেশি বার দেখা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটির উপস্থাপনা ও ভঙ্গি নিয়ে তরুণদের একাংশ মিম বানিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে। এরপর ক্যামেরার পরিবর্তন কিংবা জনপ্রিয় সিটকমের থিম সং ব্যবহার করে ভিডিও পোস্ট করলেও, অনেকেই সেটিকে ‘কৃত্রিম প্রচেষ্টা’ মনে করছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্স বা ফেসবুকের মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে রাজনৈতিক প্রচার ও কমেন্টের স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হলেও, ইনস্টাগ্রাম সম্পূর্ণ অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়াভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে সামান্য ভুলে তৈরি হওয়া ট্রল প্রতিরোধ করা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বেশ কঠিন।
নির্বাচনী কৌশল হিসেবে শুধু বিজেপি নয়, বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ইনস্টাগ্রামে আস্ক-মি-এনিথিং সেশন ও ক্যান্ডিড কনটেন্টের মাধ্যমে জেন-জি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সময়ের আলো/জেডি