যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক অভিযানে কোনো প্রতিবেশী দেশ যুক্ত হলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এমনকি ওই দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত হানা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় তেল রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ইরানি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
রেজায়ি বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ ওয়াশিংটনের ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ নিলে ইরান ওই দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি বিকল্প আঞ্চলিক তেল রফতানি পথও ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থানও তুলে ধরেন রেজায়ি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন বক্তব্য দিলেও প্রণালিটি ইতোমধ্যে বন্ধ রয়েছে। ওয়াশিংটন তাদের নীতি ও আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এটি আর খোলা হবে না।
রেজায়ির ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির উপকূলের অর্ধেকের বেশি অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পরিচালনার অধিকার ইরানের থাকা উচিত।
এদিকে এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিক সহায়তা দেওয়া যেকোনো সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
ট্রাম্প ইরানের তেল পাচার, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় এবং ভুয়া বা আড়াল করা কোম্পানির মাধ্যমে বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি