কুড়িগ্রাম পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে ময়লার ভাগাড় গড়ে ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর শহরের দাদা মোড় এলাকা থেকে মোগলবাসা বাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিপাড়া এলাকায় মূল সড়কের ওপরেই এই বিশাল ময়লার ভাগাড়টি অবস্থিত। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় প্রায় ৭ হাজার মানুষের বসবাস। এলাকাটি ঘিরে একটি কলেজ, ৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬ থেকে ৮টি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলোর শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। ময়লার ভাগাড়ের উৎকট দুর্গন্ধে কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত এই ময়লার ভাগাড় অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মাজেদ আলী বলেন, আবাসিক এলাকায় ময়লার ভাগাড় থাকা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এটি অন্যত্র অপসারণ করা উচিত।
বিশিষ্ট রাজনীতিক খমির উদ্দিন আহমেদ বলেন, শহরের প্রধান সড়কে এত বড় ময়লার ভাগাড় থাকলেও তা অপসারণের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো কাজ হয়নি। এই সড়কে শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে এবং দুর্গন্ধের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন ফারুক বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে প্রায় ৭ হাজার মানুষের বসবাস। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। আমি নিজে এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান, মোখলেছ, ইমন, সুস্মিতা ও কবিতা জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র সড়কে ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধে হাঁটা যায় না। বাধ্য হয়ে তাদের অনেক পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। তারা দ্রুত এই ভাগাড় অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও কুড়িগ্রাম পৌর প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা ফেলার জায়গা খোঁজা হচ্ছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো স্থান পাওয়া যাচ্ছে না। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া মাত্রই দ্রুত এই ময়লার ভাগাড়টি স্থানান্তরিত করা হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। বিস্তারিত জেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই