ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাজারের ভিড়, চলাচলে চাপ

মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

গাজীপুরে ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে বসছে একের পর এক বাজার। কোথাও সবজির স্তূপ, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার

2026-08-23T03:49:29+00:00
2026-08-23T03:49:29+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাজারের ভিড়, চলাচলে চাপ
মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরে ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে বসছে একের পর এক বাজার। কোথাও সবজির স্তূপ, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার কোথাও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মহাসড়কের স্বাভাবিক চিত্র। ফুটপাথ দখলের পাশাপাশি অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলের লেনও পরিণত হয়েছে অস্থায়ী বাজারে। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা।

মহাসড়কের প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বসছে শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার ও জৈনাবাজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারগুলোর নিজস্ব জমি না থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর ইজারা দেওয়া হচ্ছে। আর সেই ইজারার সুযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। 

প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব বাজারে কেনাবেচা চলে। বিশেষ করে ময়মনসিংহগামী লেনের বড় একটি অংশ বাজারের দখলে চলে যাওয়ায় সন্ধ্যার পরপরই যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। কখনো কখনো মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনকে।

জৈনাবাজারের ইজারাদার রাসেল আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই বাজার ইজারা নিয়েছি। ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছি। এটা নতুন কিছু নয়, যুগ যুগ ধরেই এভাবে বাজার চলে আসছে।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, মহাসড়কের জায়গা দখল করে বাজার বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। সওজ গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, বাজারের ইজারাদারদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি যোগদানের আগেই বাজারগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যাতে মহাসড়কের ওপর বাজার না বসায় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, এসব বাজারের কারণে মহাসড়ক অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও পরক্ষণেই আবার বাজার বসে যায়। বাজারের কারণে মহাসড়কের লেন দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে থাকতে হয়। জনভোগান্তি কমানো ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।


সরেজমিন শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাথ ছাড়িয়ে বাজারের দোকানপাট মহাসড়কের যানবাহন চলাচলের লেন পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বসেছে বাজার। ফলে যানবাহনকে বাধ্য হয়ে সংকুচিত একটি লেন দিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারের কারণে মহাসড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় শুধু যানজটই নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জৈনাবাজার এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও অনেক পথচারী সেটি ব্যবহার না করে সরাসরি মহাসড়ক পারাপার করছেন।

জৈনাবাজার এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের ওপর হাজার হাজার দোকান বসে থাকেÑ এটা কীভাবে সম্ভব? যানজটের কারণে জৈনাবাজার অতিক্রম করতেই অনেক সময় লেগে যায়। সন্ধ্যার পর শত শত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।

ইউনাইটেড গাড়ির যাত্রী সৈয়দা সায়েমা শারমিন বলেন, এত জায়গা থাকতে মহাসড়কের ওপর বাজার বসিয়ে যানজট তৈরি করে মানুষের ভোগান্তি কেন? হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কি বিষয়টি নজরে পড়ে না? নাকি তারাও কোনোভাবে সুবিধা পায়?

সৌখিন গাড়ির চালক জুনাইদ আহমেদ বলেন, মহাসড়ক দখল করে বাজার বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বা হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মুহূর্তেই বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে। যারা বাজার বসাচ্ছেন, তারা কি একবারও এ বিষয়টি ভাবেন না? তাদের কাছে কি মানুষের জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য বেশি?

স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা এসব বাজার দ্রুত উচ্ছেদ করে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে বাজার ইজারা ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   ঢাকা  ময়মনসিংহ  মহাসড়ক  বাজার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: