নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মেয়ে জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে সাহারা খাতুন (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহেদ বিশ্বাস (৪৪), তার মা এবং তৃতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাহারা খাতুন ওই গ্রামের মোতালেবের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুরের কাকৈরগড়া ইউনিয়নের আবুল কাশেম বিশ্বাসের ছেলে শাহেদ বিশ্বাসের সঙ্গে সাহারা খাতুনের মেয়ে কুলসুমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাহেদ কুলসুমের বাবার বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। প্রায় দেড় বছর আগে কুলসুম মারা যান। এরপর তিনি আরও দুটি বিয়ে করেন।
প্রথম স্ত্রীর ওয়ারিশি সম্পত্তির পাওনা নিয়ে শাহেদের সঙ্গে শাশুড়ি সাহারা খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে শনিবার রাতে শাশুড়ির সঙ্গে শাহেদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত ও গলা টিপে সাহারা খাতুনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয় লোকজন শাহেদ বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহেদ বিশ্বাস, তার মা শাহেরা খাতুন (৫৫) ও তৃতীয় স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে (২৭) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করেছে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/জোই