মিসওয়াক করা রাসুল (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। মিসওয়াক হলো গাছের কাঁচা ডাল দিয়ে দাঁত ঘষা। কাঁচা ডাল দিয়ে দাঁত ঘষার অনেক উপকার রয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মিসওয়াকের সত্তরটিও বেশি উপকার রয়েছে।
তন্মধ্যে একটি হলো মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হওয়া।’ তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম তবে অবশ্যই প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (মিশকাত : ৩৪৬)।
রাসুল (সা.) মিসওয়াক করাকে উম্মতের জন্য আবশ্যক করে দিতে চেয়েছিলেন। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মিসওয়াক একটি ফজিলতপূর্ণ আমল। অথচ আজকাল আমরা ব্রাশ পেয়ে মিসওয়াক করাকে ভুলেই গেছি। নতুন প্রজন্মের অনেকে মিসওয়াক কী জিনিস তা জানে না। মিসওয়াকের গুরুত্ব অন্য একটি হাদিস দ্বারাও বোঝা যায়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) যখনি আমার কাছে আসতেন, তখনই মিসওয়াক করার জন্য আমাকে আদেশ করতেন। আমার মনে হচ্ছিল মিসওয়াক করা আমার ওপর ফরজ করিয়ে দেওয়া হয় কি না!’ (মিশকাত : ৩৫৫)।
রাসুল (সা.) মিসওয়াক করাকে এতটাই গুরুত্ব দিতেন এবং এতটাই ভালোবাসতেন যে, তিনি মৃত্যুর সময়েও মিসওয়াক করা ছাড়েননি, বরং তিনি যখন মিসওয়াক করতে পারছিলেন না তখন হজরত আয়েশা (রা.) নিজ থেকে মিসওয়াক চিবিয়ে রাসুল (সা.)-এর মুখে তুলে দিচ্ছিলেন। আর রাসুল (সা.) তা দিয়ে মিসওয়াক করেছিলেন। যদিও রাব্বুল করিম পবিত্র কুরআনে মিসওয়াক সম্পর্কে কিছুই বলেননি, তবু মিসওয়াকের প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা দেখেই বোঝা যায় মিসওয়াকের মধ্যে কত সওয়াব নিহিত রয়েছে।
রাসুল (সা.) মিসওয়াক করার ব্যাপারে যেমনিভাবে জোর তাগিদ দিয়েছেন, তেমনিভাবে ডাক্তারি মতেও এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। দাঁতের সঙ্গে খাদ্যকণা জমে যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় তা দূর করার জন্যই মিসওয়াক করা একান্ত প্রয়োজন।
তিক্ত গাছের মিসওয়াকের পরিমাণ এক বিঘত পরিমাণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর এর ব্যবহারের নিয়ম হলো, ডান হাত দিয়ে মুখের ডান থেকে আড়াআড়িভাবে ঘষা। দাঁত দৈর্ঘ্যে না ঘষা এবং মিসওয়াক শেষে কাঠিটিকে ভালোভাবে ধৌত করে দাঁড় করিয়ে রাখা উচিত, যাতে পানি শুকিয়ে গিয়ে দুর্গন্ধমুক্ত থাকে।
আল্লামা নববী (রহ.) বলেন, সর্বাবস্থায় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব, তবে পাঁচটি সময় মিসওয়াক করা বিশেষ মুস্তাহাব। সেগুলো হলো- ১. নামাজের সময়। ২. কুরআন তেলাওয়াতের সময়। ৩. ওজু করার সময়। ৪. নিদ্রা হতে জাগ্রত হওয়ার পর। ৫. মুখের দুর্গন্ধ দেখা দিলে। (শারহুন নাবাবি)।
হজরত শুরাইহ ইবনে হানি (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিগ্যেস করলাম, রাসুল (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন প্রথমে কোন কাজ করতেন? জবাবে হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, মিসওয়াক করতেন (মিশকাত : ৩৪৭)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুল (সা.) মিসওয়াকের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করতেন। ওজু করার সময় ছাড়াও কোনোরূপ দুর্গন্ধের আশঙ্কা করলে সঙ্গে সঙ্গে মিসওয়াক করতেন। ঘরে ফিরেই সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। কেননা বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তার ফলে মুখের লালা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তাই মিসওয়াক করে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন।
প্রিয়নবী (সা.)-এর উম্মত হিসেবে আমাদের মিসওয়াকের ওপর আমল করা খুবই দরকার। তাই আসুন, আমরা নবী (সা.)-এর এই সুন্নতকে অভ্যাস বানিয়ে নিই। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসে সে আমাকেই ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে আমার সঙ্গেই জান্নাতে থাকবে’ (মিশকাত)। আল্লাহ সবাইকে আমল করার তওফিক দিন।
সময়ের আলো/জেডি