ভারতের রকেট উৎক্ষেপণই সবচেয়ে ব্যয়বহুল, দাবি ক্যামব্রিজের গবেষণায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর রকেট উৎক্ষেপণ বিশ্বের বড় মহাকাশ শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতালির পলিটেকনিকো দি

2026-08-23T15:36:29+00:00
2026-08-23T15:36:29+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতের রকেট উৎক্ষেপণই সবচেয়ে ব্যয়বহুল, দাবি ক্যামব্রিজের গবেষণায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর রকেট উৎক্ষেপণ বিশ্বের বড় মহাকাশ শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতালির পলিটেকনিকো দি তোরিনোর গবেষকদের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে প্রতি কেজি পেলোড পাঠাতে ভারতের গড় খরচ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৩০২ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে এই খরচ ছিল ৩ হাজার ২২৫ ডলার। অর্থাৎ ভারতের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় চার গুণ।

বিশ্বের অন্যান্য বড় মহাকাশ শক্তির মধ্যে জাপানে প্রতি কেজিতে খরচ ছিল ৫ হাজার ২৮৭ ডলার, চীনে ৫ হাজার ৮০৯ ডলার, রাশিয়ায় ৬ হাজার ৬৮২ ডলার এবং ইউরোপে ৯ হাজার ৮৯৭ ডলার। বিশ্বব্যাপী গড় খরচ ছিল ৩ হাজার ৮৬৮ ডলার।

অর্থনীতিবিদ আলেসিও তেরজি ও ফ্রান্সেসকো নিকোলির করা গবেষণাটি ‘ইকোনমিক্স লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৪০টির বেশি রকেট উৎক্ষেপণের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, ভারতের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি উৎক্ষেপণ ব্যয় বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো রকেটের তুলনামূলক কম পেলোড বহনের সক্ষমতা। ফলে উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট খরচ কম সংখ্যক কেজির ওপর ভাগ হওয়ায় প্রতি কেজিতে ব্যয় বেড়ে যায়।

তবে গবেষণার এই ফলাফল ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির ‘স্বল্প ব্যয়ে বড় সাফল্য’ অর্জনের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসরো দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত বাজেটে চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রশংসিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কম উৎক্ষেপণ ব্যয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে স্পেসএক্সের পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি এবং উচ্চ উৎক্ষেপণ হার। বিশেষ করে ফ্যালকন-৯-এর প্রথম ধাপ বারবার ব্যবহার করা যায়, যা উৎক্ষেপণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

গবেষকদের মতে, বেশি সংখ্যক উৎক্ষেপণের ফলে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাড়ে, শিল্প অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ে এবং স্থায়ী খরচ বেশি সংখ্যক মিশনের মধ্যে ভাগ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে উৎক্ষেপণের খরচ কমার ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিজ্ঞতার প্রভাব পরিসংখ্যানগতভাবে স্পষ্ট হলেও ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যায়নি।

তবে গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইসরো। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন এনডিটিভিকে বলেছেন, গবেষণায় ‘ভুল তথ্য’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোন তথ্য বা হিসাব ভুল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

সাবেক ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথও প্রতি কেজির খরচ দিয়ে উৎক্ষেপণের প্রকৃত অর্থনীতি বিচার করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯-এর প্রতি কেজি খরচ কম হওয়ার বড় কারণ তাদের বিপুল উৎক্ষেপণ সংখ্যা ও নিজস্ব ব্যবহারের পরিমাণ। ভারতীয় উৎক্ষেপণ সেবাকে তিনি অতিরিক্ত ব্যয়বহুল বলে মনে করেন না।

গবেষণায় ভারতের মহাকাশ খাতের আরেকটি দুর্বলতা হিসেবে কম উৎক্ষেপণ হার ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারত পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণযান নিয়ে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালালেও এখনো কক্ষপথে নিয়মিত ব্যবহারের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট চালু করতে পারেনি।

এদিকে স্পেসএক্স ২০২৫ সালে প্রায় ১৬৫টি ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণ করেছে। বিপরীতে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরোর ৫৭ বছরের ইতিহাসে মোট উৎক্ষেপণের সংখ্যা প্রায় ১০৫টি।

গবেষকদের মতে, মহাকাশে প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু কম খরচ নয়, বড় পেলোড বহনের সক্ষমতা, উচ্চ উৎক্ষেপণ হার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে ভারতের মহাকাশ খাতকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হলে প্রচলিত স্বল্প ব্যয়ের মডেলের পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

তবে গবেষণাটি প্রকাশের সময় ইসরো চলতি বছরের প্রথম সফল রকেট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে।


সময়ের আলো/কেএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: