সমুদ্রে ট্রলিং ট্রলারের অবাধ চলাচল নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। রোববার (২৩ আগস্ট) মহিপুরে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জেলে, ট্রলার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ট্রলিং ট্রলারের বিষয়টি নিয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে শুধু দেশের অর্থনীতি বা মৎস্যসম্পদের ক্ষতি নয়, এর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে। দিনশেষে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তীর রাজনৈতিক দলের দিকেই আসে। তাই ট্রলিং ট্রলার বন্ধ না হলে দেশের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি, নেতৃত্বের ক্ষতি এবং সর্বোপরি ভোটের ক্ষতি হতে পারে।
নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে বেশ কয়েকটি নির্বাচন রয়েছে। তখন মানুষের কাছে ভোট চাইতে হবে। অথচ জেলেদের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের কাছে যাওয়ার পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জেলেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের অনুভূতিগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করি, সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
মতবিনিময় সভায় জেলেরা দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট, সমুদ্রযাত্রার নিরাপত্তা ও মাছ ধরার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের ট্রলার চলাচল সহজ করতে খাপড়াভাঙা নদীতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার সময় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি লাইটিং হাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী খাপড়াভাঙা নদী ও মাছ ধরার ট্রলার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জেলেদের সঙ্গে একই ট্রলারে দুপুরের খাবার খান এবং তাদের জীবনযাপন ও সমুদ্রযাত্রার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সরাসরি কথা বলেন।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের ‘নৌযানের ডাটাবেজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে চলছে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’। এ শুমারির মাধ্যমে নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দরের সদস্য কমোডর তারেক, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে খাপড়াভাঙা নদী পরিদর্শনের সময় নদীর নাব্য, ট্রলার চলাচল ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সময়ের আলো/আতা