পঞ্চগড়ে চাঞ্চল্যকর এক গণধর্ষণ মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী মামলার পাঁচ আসামিকে সসম্মানে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অভিযোগে মামলার বাদী ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার এক নারী অভিযোগ করেন যে, তিন মাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আসামিরা মুখ চেপে রাস্তার পাশে নিয়ে যায় এবং তার দুই বছরের শিশুকে জিম্মি করে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় তিনি জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
তবে মামলার তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে অভিযুক্ত পাঁচ আসামির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বরং সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ-র শতভাগ মিল পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, আইবুল হকের বাড়িতেই ওই নারী ভাড়া থাকতেন এবং তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এই ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছিল। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত আসামিদের খালাস দিয়ে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শুরুর অনুমতি দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে ৫ জন নিরপরাধ মানুষকে জেল খাটানো ও সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গেতথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হলো
যে, মিথ্যা মামলা দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
সময়ের আলো/জোই