বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র প্রধান শিক্ষক সংকট চলছে। দুই উপজেলার সিংহভাগ বিদ্যালয়ই বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
উজিরপুর উপজেলায় মোট ১৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১১টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৪০টিতে চলতি দায়িত্ব এবং ৭১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চলছে।
বানারীপাড়া উপজেলায় মোট ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৭টিতে পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টিতে চলতি দায়িত্ব এবং ৫৭টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
মোট শূন্য পদ দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট ৩০৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৮টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকহীন অবস্থায় চলছে।
পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগ বন্ধ প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ৮০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা ২০১৭ সালে কিছু জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের স্থায়ী পদোন্নতি মেলেনি। এর মধ্যে অনেকে অবসরে গেছেন বা মারা গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
অতিরিক্ত কাজের চাপ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের একদিকে নিয়মিত পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দাফতরিক কাজ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি তদারকি, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক ও অ্যাকাডেমিক ব্যত্যয় প্রধান শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণ, অফিশিয়াল তথ্য প্রদান এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে চলতে থাকলে প্রাথমিক শিক্ষা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন অবিলম্বে আইনি জটিলতা ও পদোন্নতির বাধা দূর করে শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) মো. বায়েজিদুর রহমান এবং উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, প্রাথমিক শিক্ষাকে গতিশীল রাখতে শূন্যপদে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা সচেতন ব্যক্তিরা মনে করেন, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করা এখন সময়ের দাবি।
সময়ের আলো/জোই